ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকার গনতান্ত্রিক ইতিহাসে নেলসন ম্যান্ডেলা একটি স্মরণীয় নাম। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ হয়েও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন। স্বৈরাচারী শাসকের শোষকের হাত থেকে তিনি নিপীড়ত মানুষকে মুক্তি দিয়েছেন। পৃথিবীর গনতন্ত্র ও মুক্তিকামী মানুষের কাছে আজও তিনি অমর ও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

  1. ক)

    বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কি?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধের সাভেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভুমিকা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মকাণ্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে কোন মহান নেতার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পঠিত উক্ত মহান নেতার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা লাভ করেছে - পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হলো 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' (People's Republic of Bangladesh)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তিনবার 'ভেটো' প্রয়োগ করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও তারা বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রাখে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের গতিকে সচল রেখেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার স্বৈরাচারী ও বর্ণবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে নিপীড়িত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে মুক্তি এনে দেন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।\n\nএকইভাবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর দীর্ঘ চব্বিশ বছরের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করতে গিয়ে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো তিনিও আপসহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে বাঙালিকে মুক্তির পথ দেখান। তাই উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।\n\n১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণ করে। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবি পেশ করেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে স্তব্ধ করতে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করলেও জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং জাতি তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।\n\n১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করলে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন—'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর এই ঘোষণার ভিত্তিতে এবং তাঁর নামেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়।\n\nসুতরাং, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী, বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বের ফলেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন