ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আধুনিক সিঙ্গাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। এ সকল চুরি- ডাকাতিসহ অন্যান্য কাজের অপবাদ থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য কয়েকজন যুবক ঐক্যবদ্ধ একটি সমিতি গঠন করেন এবং উক্ত সমিতি। কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী অপরাধীদের কঠোর শাস্তির। ব্যবস্থা করে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্য জাতিতে পরিণত হয়।

  1. ক)

    আরব দেশ কোন মহাদেশে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    হযরত মুহাম্মদ (স)-কে 'আল-আমিন' বলা হতো কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতি গঠনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সমিতির কর্মসূচিগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে। বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরব দেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত মুহাম্মদ (সা.) শৈশব ও কৈশোর থেকেই পরম সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, আমানতদার এবং সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন বলে মক্কার জনগণ তাঁকে 'আল-আমিন' বা 'বিশ্বাসী' উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

    আইয়ামে জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকারের মধ্যেও তিনি কখনোই মিথ্যা কথা বলতেন না, কারো আমানতের খেয়ানত করতেন না এবং সবার সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতেন। তাঁর এই অতুলনীয় সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে আরবের কাফির-মুশরিকরাও নিজেদের মূল্যবান ধন-সম্পদ নির্দ্বিধায় তাঁর কাছে গচ্ছিত রাখত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতি গঠনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রাক-ইসলামি যুগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্যোগে গঠিত শান্তি সংঘ 'হিলফুল ফুজুল' গঠনের মিল রয়েছে।

    আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী 'হারবুল ফিজার' বা অন্যায় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে তরুণ মুহাম্মদ (সা.) গভীরভাবে ব্যথিত হন। যুদ্ধোত্তর সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অন্যায়-অত্যাচার বন্ধ করার লক্ষ্যে তিনি সমমনা ও ন্যায়পরায়ণ যুবকদের নিয়ে ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে 'হিলফুল ফুজুল' নামে একটি শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সিঙ্গাপুরে নৈতিক অবক্ষয় ও চুরি-ডাকাতি রোধে যুবকরা সংঘবদ্ধ হয়ে একটি সমিতি গঠন করে সমাজ সংস্কারে ব্রতী হয়েছিল। মহানবী (সা.)-ও তৎকালীন অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজে অন্যায় প্রতিরোধ ও শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যুবকদের নিয়ে একই উদ্দেশ্যে হিলফুল ফুজুল গঠন করেছিলেন। তাই উদ্দীপকের সমিতির সাথে হিলফুল ফুজুলের স্পষ্ট মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শান্তি সংঘ 'হিলফুল ফুজুল'-এর কর্মসূচিগুলো ছিল তৎকালীন অশান্ত আরব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে হিলফুল ফুজুলের মূল কর্মসূচি বা লক্ষ্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধ: সমাজে যে-কোনো ধরনের জুলুম, নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানো এবং শান্তি বজায় রাখা।
    ২. দুর্বল ও মজলুমের সাহায্য: সমাজে অসহায়, দুর্বল ও নির্যাতিত মানুষকে সহায়তা করা এবং তাদের ওপর অত্যাচারকারীর হাত থেকে রক্ষা করা।
    ৩. বিদেশি ও বণিকদের নিরাপত্তা দান: বহিরাগত বণিক, মুসাফির ও পথচারীদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা, যাতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ওপর অবিচার না করতে পারে।
    ৪. বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সংঘাত নিরসন: আন্তঃগোত্রীয় বিরোধ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।
    ৫. চুরি-ডাকাতি ও অনাচার রোধ: সমাজে প্রচলিত চুরি, ডাকাতি ও অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা।

    এসব মহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে হিলফুল ফুজুল তৎকালীন অন্ধকার আরবে প্রায় পঞ্চাশ বছর যাবত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিল, যা আধুনিক মানবাধিকার ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন