ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মোহনপুর থানার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী বিভিন্ন প্রকার কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে লিপ্ত। গ্রামের সচেতন নাগরিক করিম সাহেব বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে এ সমস্ত কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে একটি ধর্মীয় আন্দোলন করেন। ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ক)(1)
কে Vernacular Press Act রহিত করেন?
- খ)(2)
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব কী ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নেতার সঙ্গে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত কর্মকাণ্ডের ফলাফল তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে Vernacular Press Act (দেশীয় সংবাদপত্র আইন) রহিত করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন সার্বভৌম ডোমিনিয়নের সৃষ্টি হয়। এই আইনের মাধ্যমেই দীর্ঘ ঔপনিবেশিক পরাধীনতা থেকে ভারতীয় জনগণ মুক্তি পায় এবং আধুনিক ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের করিম সাহেবের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর কাজের সাদৃশ্য রয়েছে।
হাজী শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করা নানা অনৈসলামিক কুসংস্কার, শিরক, বিদআত দূর করে ইসলামের মূল শিক্ষায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি ইসলামের মৌলিক 'ফরজ' পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে 'ফরায়েজী আন্দোলন' শুরু করেছিলেন। উদ্দীপকেও করিম সাহেব মোহনপুর থানার জনগণের অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করার জন্য ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন, যা হাজী শরীয়তুল্লাহর গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনের ফলাফল তৎকালীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ছিল:
১. সামাজিক ও ধর্মীয় জাগরণ: হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলমান সমাজ থেকে বহু অনৈসলামিক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূরীভূত হয় এবং মানুষ তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।
২. রাজনৈতিক রূপান্তর: আন্দোলনটি ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনটি আরও সুসংগঠিত হয়ে কৃষকদের শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্তির এক রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়।
৩. অধিকার সচেতনতা: কৃষক ও দরিদ্র প্রজাদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল।
অতএব, ফরায়েজী আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে শোষিত বাঙালি মুসলিম ও কৃষক সমাজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও