‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি | ? | ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া
| ভার্সাই সন্ধি |

  1. ক)

    লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    এক রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ঐ বিষয়টির উদ্ভবের মূল কারণ- সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লীগ অব নেশনস (জাতিসংঘ বা জাতিপুঞ্জ)-এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থাপিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মার্কিন কংগ্রেসে যে ঐতিহাসিক চৌদ্দ দফা নীতি ঘোষণা করেন, তা উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা নামে পরিচিত।
    এই চৌদ্দ দফার মূল বিষয়বস্তু ছিল উন্মুক্ত কূটনীতি, সমুদ্রের অবাধ স্বাধীনতা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের স্বীকৃতি এবং জাতিসমূহের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা (লীগ অব নেশনস) গঠন করা। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে ভার্সাই শান্তি সম্মেলনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে ত্রি-শক্তি মৈত্রী (জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি) এবং ত্রি-শক্তি আঁতাত (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও রাশিয়া)-এর মধ্যবর্তী সংঘাত অর্থাৎ 'প্রথম বিশ্বযুদ্ধ'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার সমাপ্তি ঘটেছিল ১৯১৯ সালের ভার্সাই সন্ধির মাধ্যমে।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. গোপন চুক্তি ও পরস্পরবিরোধী জোট: ইউরোপ তখন প্রধান দুটি সামরিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল— জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির 'ত্রি-শক্তি মৈত্রী' (Triple Alliance) এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার 'ত্রি-শক্তি আঁতাত' (Triple Entente)। এই জোটবদ্ধতা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে দেয়।
    ২. সাম্রাজ্যবাদী ও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বাজার ও কাঁচামাল দখলের লক্ষ্যে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে উগ্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।
    ৩. সামরিক প্রতিযোগিতা: ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে।
    ৪. উগ্র জাতীয়তাবাদ: বিশেষ করে বলকান অঞ্চলে প্যান-স্লাভ আন্দোলন ও সার্ব জাতীয়তাবাদ সংঘাতকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'প্রথম বিশ্বযুদ্ধ'। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ড ও তাঁর পত্নী সোফির হত্যাকাণ্ডই বিশ্বযুদ্ধের মূল বা একমাত্র কারণ ছিল না, বরং তা ছিল যুদ্ধের तात्ক্ষণিক উপলক্ষ মাত্র।

    ১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে এক সার্বীয় আততায়ীর গুলিতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ দম্পতি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে দায়ী করে এক চরমপত্র দেয় এবং এক মাস পর সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া সার্বিয়ার সমর্থনে সেনা মোতায়েন করে এবং পারস্পরিক সামরিক চুক্তির জালে আবদ্ধ হয়ে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

    তবে এই ঘটনার পেছনে বহুদিন ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া গভীর কারণগুলো কাজ করছিল। যার মধ্যে ছিল ইউরোপের উগ্র জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা, সামরিক অস্ত্রসজ্জা এবং মহাদেশটিকে দুটি যুদ্ধংদেহী শিবিরে বিভক্তকারী গোপন চুক্তি ব্যবস্থা। সারায়েভো হত্যাকাণ্ড কেবল একটি স্ফুলিঙ্গের কাজ করেছিল, যা বারুদের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    সুতরাং, যুবরাজ দম্পতির হত্যাকাণ্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা তাৎক্ষণিক কারণ হলেও একে যুদ্ধটির একমাত্র মূল বা গভীর কারণ বলা যায় না; বরং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বই ছিল এর মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন