ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের চেয়ে পূর্বাঞ্চলের জনগণ অনুন্নত ও অবহেলিত ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর বৈরী মনোভাব আর পূর্বাঞ্চলের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র জন্ম লাভ করে। এ বিভক্তির ফলে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জনগণের একটি অংশ এ বিভক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে প্রবল আন্দোলনের মুখে দুই জার্মানিকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়।
- ক)(1)
বেঙ্গল প্যাক্ট কী?
- খ)(2)
খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা-করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই জার্মানির বিভক্তি ব্রিটিশ বাংলার কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জার্মানির পুনরায় একত্রীকরণ ও উক্ত ঘটনার পরিণতি কি একই ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯২৩ সালে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক চুক্তি প্রণয়ন করেন, তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা বঙ্গীয় চুক্তি নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খেলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং তুরস্কের সুলতান তথা মুসলিম জাহানের খলিফার মর্যাদা ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রাখা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে যুদ্ধশেষে ব্রিটিশ সরকার তুরস্ককে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয় (সেভার্স চুক্তি)। ব্রিটিশদের এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এবং খেলাফতের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে ভারতীয় মুসলিমরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে এই আন্দোলন শুরু করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জার্মানির বিভক্তি ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বঙ্গভঙ্গের পূর্বে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশটি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বিশাল ছিল। ফলে পূর্বাঞ্চলের জনগণ বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত দিক থেকে পশ্চাৎপদ ও অবহেলিত ছিল। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সুবিধা এবং শাসনব্যবস্থার সংস্কারের যুক্তিতে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলের অনুন্নত জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন এবং বৈরী মনোভাবের কারণে অঞ্চলটি বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে রূপ নেয়। সুতরাং, এই বিভক্তির প্রেক্ষাপট ও কারণ ব্রিটিশ বাংলার ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জার্মানির পুনরায় একত্রীকরণ এবং বঙ্গভঙ্গ রদের ফলাফল বা পরিণতি একই উদ্দেশ্যে ঘটলেও তার চূড়ান্ত প্রভাব ও পরিণতি এক ছিল না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তীব্র আন্দোলনের মুখে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ ঘটে এবং তা স্থায়ী শান্তি ও একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী জার্মান জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে হিন্দু উচ্চবর্ণ ও কংগ্রেসের তীব্র স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে বাংলাকে পুনরায় একত্র করে।
তবে এই দুই পুনরেকত্রীকরণের পরিণতি ভিন্ন ছিল। জার্মানির একত্রীকরণ যেখানে জাতির বন্ধন দৃঢ় করেছিল, সেখানে বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার বোধ তীব্রতর হয়। ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনার মাধ্যমেই মুসলিম নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেন যে তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক অধিকারের জন্য স্বতন্ত্র পথ প্রয়োজন, যা পরোক্ষভাবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পথকে সুগম করেছিল। তাই বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রে আন্দোলনের মুখে ভূখণ্ড একত্রীকরণ হলেও তাদের ঐতিহাসিক পরিণতি ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও