ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করতে থাকে। কিন্তু এভাবে কাজ করলে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। এরূপ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা ও নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য তাদের একটি সমন্বিত সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ সময়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এ সংগঠনটি দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে লক্ষ্মৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়?
- খ)(2)
ইলবার্ট বিল কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সংগঠনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংগঠনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামে উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে লক্ষ্মৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৮৩ সালে বড়লাট লর্ড রিপনের আইন পরিষদের সদস্য সি. পি. ইলবার্ট ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন, যা ইতিহাসে 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ে কোনো ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয়দের বিচার করতে পারতেন না। এই বর্ণবৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করতে চাইলে ভারতে বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গরা এর তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তাদের চাপের মুখে বিলটি সংশোধন করে আপস করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সংগঠনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত 'নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস' (Indian National Congress) সংগঠনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
১৮৮৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের উদ্যোগে এবং ভারতীয় রাজনৈতিক সচেতন নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল সরকারের সাথে সহযোগিতা রক্ষা করে সাংবিধানিক উপায়ে ভারতীয়দের অভাব-অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিবেশী একটি দেশের রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা প্রথমে বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করলেও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সরকারকে সহযোগিতাপূর্বক দাবি আদায়ের জন্য একটি সমন্বিত রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত অগ্রণী ও ঐতিহাসিক।
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থেকে আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে সাংবিধানিক দাবি আদায়ে সচেষ্ট ছিল। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মহাত্মা গান্ধী, বাল গঙ্গাধর তিলক, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখের নেতৃত্বে এটি একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়।
কংগ্রেসের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছিল অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪) এবং ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সংগঠনটি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করে এবং হিন্দু-মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ব্রিটিশবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল করে। দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পথ ধরে অবশেষে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা কংগ্রেসের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের তীব্রতার মুখে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতকে স্বাধীনতা প্রদানে বাধ্য হয়। সুতরাং, দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও