মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-২: প্রকৃত সমস্যার সমাধান-করতে না পারলেও মানুষ তার মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে সর্বদা। যেমন: সে কখনও নিজের কষ্টগুলো জোরপূর্বক ভুলে থাকে কিংবা অবাস্তব চিন্তা করে। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন আত্মরক্ষামূলক কৌশল।

  1. ক)

    আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    কর্মভার নিরসনে কর্ম-বিরতির প্রয়োজন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এর 'A'চিহ্নিত অংশটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানসিক চাপ মোকাবেলায় দৃশ্যকল্প-২ এ যে কৌশলগুলো কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন কোনো ব্যক্তির সামনে সমমূল্যের দুটি আকর্ষণীয় বা ইতিবাচক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য উপস্থিত থাকে এবং তার মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়, তখন যে মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় তাকে আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব (Approach-approach conflict) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ব্যক্তির মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, অবসাদ এবং একঘেয়েমি দেখা দেয়, যা কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। কর্ম-বিরতির ফলে মাংসপেশি শিথিল হয়, মানসিক শক্তি ও মনোযোগ পুনরুদ্ধার হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়ে কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। তাই কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা রক্ষার জন্য কর্মভার নিরসনে কর্ম-বিরতির প্রয়োজন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এর 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো 'শারীরিক কর্মভার' (Physical Workload)।

    কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ওপর শারীরিক শ্রমের যে চাপ বা দায়িত্ব অর্পিত হয়, তাকে শারীরিক কর্মভার বলে। ছকে দেখা যাচ্ছে, কর্মভারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—একটি হলো মানসিক কর্মভার এবং অপরটি ('A') হলো শারীরিক কর্মভার।

    শারীরিক কর্মভার মূলত কায়িক পরিশ্রমের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত ভারী বস্তু বহন করা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা, প্রতিকূল পরিবেশে (যেমন অতিরিক্ত তাপ বা আলোহীন স্থান) শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করা ইত্যাদি শারীরিক কর্মভারের অন্তর্ভুক্ত। যখন কোনো কর্মীর শারীরিক সামর্থ্যের চেয়ে কাজের চাপ বেশি হয়ে যায়, তখন মাংসপেশিতে ক্লান্তি আসে, কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং পেশাগত দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। সঠিক কর্ম-বিরতি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে শারীরিক কর্মভার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানসিক চাপ মোকাবেলায় দৃশ্যকল্প-২ এ সিগমুন্ড ফ্রয়েড বর্ণিত ফ্রাস্ট্রেশন বা চাপ নিরসনের আত্মরক্ষামূলক কৌশল (Defense Mechanisms)—বিশেষ করে 'অবদমন' (Repression) এবং 'কল্পনা বা দিবাস্বপ্ন' (Fantasy/Daydreaming)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে কৌশল দুটি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অবদমন (Repression): উদ্দীপকে বলা হয়েছে—"সে কখনও নিজের কষ্টগুলো জোরপূর্বক ভুলে থাকে"। এটি অবদমনের পরিচায়ক। অবদমন হলো এমন একটি অচেতন বা অবচেতন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার কষ্টদায়ক, উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্মৃতি, অনুভূতি বা অভিজ্ঞতাকে সচেতন মন থেকে অবচেতন মনে ঠেলে দেয় এবং ভুলে থাকার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি সাময়িকভাবে উদ্বেগ বা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি লাভ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অবদমিত কষ্টগুলো মানসিক জটিলতা ও অসঙ্গতি সৃষ্টি করতে পারে।

    ২. দিবাস্বপ্ন বা কল্পনাবিলাস (Fantasy / Daydreaming): উদ্দীপকে বলা হয়েছে—"কিংবা অবাস্তব চিন্তা করে"। এটি কল্পনাবিলাস বা দিবাস্বপ্ন কৌশলের লক্ষণ। যখন মানুষ বাস্তব জীবনে তার কোনো লক্ষ্য বা সমস্যার সমাধান করতে পারে না, তখন সে কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা ও বাসনা পূর্ণ করতে চায়। বাস্তব জগতের কষ্ট ও ব্যর্থতা ভুলে থাকতে অবাস্তব চিন্তাভাবনা মানুষকে সাময়িক প্রশান্তি ও মানসিক আরাম দেয়।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত কৌশলগুলো মূলত অবদমন এবং অবাস্তব চিন্তা বা কল্পনাবিলাস, যা মানুষ সচেতন বা অবচেতনভাবে তার মানসিক চাপ ও উদ্বেগ প্রশমনের আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন