ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
সোবাহান পাড়া কল্যাণ সমিতি তালতলী উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী সমিতি। কিন্তু ইদানীং সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সম্পর্কের দারুণ অবনতি ঘটে। সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, সভাপতি নিজ আত্মীয়-স্বজনকে সমিতির বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক প্রতিকার করতে না পেরে উক্ত সমিতি থেকে বের হয়ে সোবাহান পাড়া উন্নয়ন প্রকল্প নামে আলাদা একটি সমিতি গঠন করেন। এ সমিতির লক্ষ্য ছিল তালতলী উপজেলার উন্নয়নে কাজ করা এবং সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
- ক)(1)
রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দিয়েছিলেন কে?'
- খ)(2)
রাওলাট আইন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সোবাহান পাড়া কল্যাণ সমিতির কর্মকাণ্ডের সাথে ইতিহাসের কোন সংগঠনের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সোবাহান পাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল তালতলী উপজেলার উন্নয়নে কাজ করা এবং সকলের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন"- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দিয়েছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতে বিপ্লবী ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে বিচারপতি সিডনি রাওলাটের সুপারিশের ভিত্তিতে যে দমনমূলক আইন প্রণয়ন করে, তাকে 'রাওলাট আইন' বলা হয়। এ আইনের অধীনে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তিকে সন্দেহের বশে গ্রেপ্তার, বিনা বিচারে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক এবং গোপন আদালতে বিচার করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সোবাহান পাড়া কল্যাণ সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভাজনের সাথে তৎকালীন 'নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস' (বা ব্রাহ্মসমাজ)-এর বিভাজনের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। বিশেষত কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও স্বার্থের টানাপোড়েনের কারণে মুসলিম লীগ গঠনের ঘটনাটির সাথে এর সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সোবাহান পাড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে সুযোগ-সুবিধা দিলে সাধারণ সম্পাদক প্রতিকার না পেয়ে আলাদা সংগঠন গঠন করেন। অনুরূপভাবে, জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পর এটি ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ এলিটদের স্বার্থরক্ষা করছিল বলে মুসলিম নেতারা অনুভব করেন। ব্রিটিশ প্রশাসন ও কংগ্রেসি নেতৃত্বের পক্ষপাত ও মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রেক্ষিতে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' নামক নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'সোবাহান পাড়া উন্নয়ন প্রকল্প' গঠনের লক্ষ্য পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সাধারণ সম্পাদক অবিচার দূর করতে এবং তালতলী উপজেলার সবার সার্বিক উন্নয়নে সকলের সাথে সুসম্পর্ক রেখে নতুন সমিতি গঠন করেন। একইভাবে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ রাজের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে মুসলমানদের ন্যায্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায় করা এবং একই সাথে উপমহাদেশের অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো প্রকার বিদ্বেষভাব পোষণ না করে তাদের সাথে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
মুসলিম লীগ গঠনের লক্ষ্য ছিল তিনটি: ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আনুগত্য বাড়ানো এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করা; মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করে সরকারের কাছে তা উপস্থাপন করা; এবং অপরাপর সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রীতি বিনষ্ট না করে তাদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন থাকা। উদ্দীপকে বর্ণিত নতুন সমিতির উন্নয়ন ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য মুসলিম লীগের এই আদর্শিক লক্ষ্যের বাস্তব প্রতিচ্ছবি প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও