ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বঙ্গবন্ধু কবে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৬৯ সালে গনঅভ্যুথান কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রগুলো আমাদের জাতীয় জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে উক্ত ঘটনাই আমাদের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল" - উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান হলো পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, শোষণ ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব ও সর্বাত্মক গণবিদ্রোহ।

    বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফা এবং ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে এই আন্দোলন তীব্র রূপ লাভ করে। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আসাদ, ড. শামসুজ্জোহা প্রমুখের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রগুলো ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্মম গণহত্যা ও বর্বরতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত সামরিক আক্রমণ চালায়, যার গোপন নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। উদ্দীপকের ছবিগুলোতে দেখা যায় রাস্তায় নিহত মানুষের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লাশ, রিকশাচালকের লাশ এবং বধ্যভূমিতে গণকবরের দৃশ্য। এসব দৃশ্য ২৫শে মার্চের কালরাতে এবং পরবর্তী ৯ মাসে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি। এই বর্বর আক্রমণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চরম সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের নির্মম গণহত্যাই আমাদের স্বাধীনতার পথকে চূড়ান্তভাবে ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শোষণ করে আসছিল। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।

    উদ্দীপকের চিত্রগুলোতে নিরীহ মানুষের নিথর দেহ ও গণহত্যার নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ বাঙালিদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, পাকিস্তানের অধীনে আর কোনো আপস বা স্বায়ত্তশাসন সম্ভব নয়। এর ফলেই ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সুতরাং, ২৫শে মার্চের সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞই মূলত বাঙালির মনে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত সংকল্প তৈরি করে মুক্তির পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন