ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি। নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরেও দক্ষিণ কোরিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া, কুয়েত, সৌদিআরব প্রভৃতি দেশে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সরব উপস্থিতি। কোনো দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে মার্কিন সরকার মিত্রতার নিদর্শনস্বরূপ সেদেশে সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে থাকে। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এহেন মিত্র রাষ্ট্রগুলো মার্কিনিদের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে তাদের পক্ষে অনেকক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে। রাষ্ট্র পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
তিতুমীর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
হাজী শরিয়তউল্লাহর সংস্কার আন্দোলন কি কৃষক আন্দোলনে। পরিণত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে নীতির প্রতিফলন ঘটেছে, তার সাথে ব্রিটিশ ভারতের একজন গভর্নর জেনারেলের কোন নীতির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নীতি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে কী ভূমিকা রেখেছিল? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন মূলত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। কারণ ফরায়েজী আদর্শে উদ্বুদ্ধ কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ দেখে স্থানীয় হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকররা তাদের ওপর নিপীড়ন ও নানা অন্যায্য কর (যেমন দাড়ির ওপর কর) চাপিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে হাজী শরীয়তউল্লাহ কৃষকদের অন্যায় খাজনা ও কর দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং শোষক জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে এটি স্পষ্টতই কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে নীতির প্রতিফলন ঘটেছে, তার সাথে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' নয়, বরং 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি'র (Subsidiary Alliance) সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রতার ছলে বিভিন্ন দেশে সৈন্য মোতায়েন করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো মার্কিনদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা হারায়।
লর্ড ওয়েলেসলি ঠিক একইভাবে ভারতীয় দেশীয় রাজ্যগুলোতে ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন করতেন এবং তাদের নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী ভেঙে দেওয়া ও ব্রিটিশদের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও সাথে সম্পর্ক না রাখার শর্ত দিতেন। ফলে সেই রাজ্যগুলো ইংরেজদের তাঁবেদারে পরিণত হয়ে কার্যত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলত। উদ্দীপকের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি পুরোপুরি অভিন্ন চরিত্রের।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
প্রথমত, এই নীতির মাধ্যমে কোম্পানি কোনো রক্তপাত বা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ছাড়াই ভারতীয় রাজ্যগুলোর প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। হায়দরাবাদের নিজাম সর্বপ্রথম এই চুক্তি স্বাক্ষর করে নিজের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে তুলে দেন। এরপর অযোধ্যা, তাঞ্জোর, সুরাট, পেশোয়া এবং বেরারসহ বহু রাজ্য ব্রিটিশদের করদ রাজ্যে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, চুক্তির শর্তানুযায়ী ভারতীয় রাজাদের অর্থ ও ভূখণ্ড দিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যের ব্যয় বহন করতে হতো। ফলে ব্রিটিশ কোম্পানি নিজ খরচের পরিবর্তে ভারতীয় অর্থে এক বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তোলে এবং পুরো ভারতজুড়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।
তৃতীয়ত, দেশীয় রাজ্যগুলোতে ব্রিটিশ রেসিডেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করে রাজ্যগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল ও নির্ভরশীল করে ফেলা হয়। ফরাসি প্রভাব পুরোপুরি দূর করে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ইংরেজদের এক বাণিজ্যিক শক্তি থেকে ভারতের সর্বেসর্বা অধিপতিতে পরিণত করতে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও