ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
ঝড়ের রাত। অন্ধকার। কিছু লোক পথ চলছিল। হঠাৎ তাদের টর্চের আলো নিভে যায়। কয়েকজন থমকে দাঁড়ালো। আর এগোতে সাহস পেল না। কেউ কেউ পথ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করছে। এমন সময় ভ্রমণ দলের এক সদস্য তালহা বলল, 'যদি আলো জ্বালানো হয় তবে আমরা পথ দেখতে পাব। কিন্তু আমাদের ভেতরকার ইচ্ছা শক্তি না থাকলে জাগতিক আলোও আমাদের বাঁচাতে পারবে না'। অপরদিকে জনাব জাফর সাহেব বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দুই টুকরা সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরে একটি নির্দিস্ট শহরে উপস্থিত হয়েছে। ৯ জিলহজ্জ নির্দিষ্ট একটি ময়দানে উপস্থিত হয়ে গুনাহ মাফের জন্য কান্নাকাটি করছেন।
- ক)(1)
'আল-কিতাব' অর্থ কী?
- খ)(2)
'সত্যবাদিতা মানুষকে মুক্তি দেয়।' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সূরা আল-বাকারার আলোকে তালহার বক্তব্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জাফর সাহেবের পালনীয় ইবাদত তাকে জান্নাত লাভের উপযোগী করবে। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-কিতাব' শব্দের অর্থ গ্রন্থ, বই বা লিখিত বস্তু (এখানে আল-কুরআনকে নির্দেশ করা হয়েছে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সত্যবাদিতা বা 'সিদক' হলো মানুষের একটি মহৎ মানবিক গুণ যা ব্যক্তিকে নৈতিক উন্নতি ও পাপমুক্ত জীবনযাপনে পরিচালিত করে। মহানবি (সা.) বলেছেন, "সত্যবাদিতা মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে।" সত্যবাদী ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, মানুষের আস্থা লাভ করে এবং সৎকাজের পথে পরিচালিত হয়ে আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সূরা আল-বাকারায় মুনাফিকদের অন্তরের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও পথভ্রষ্টতাকে অন্ধকার রাতে আলো জ্বলে ওঠার পর পুনরায় আলো নিভে যাওয়ার উপমার মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে। তালহার বক্তব্যটি সূরা আল-বাকারার এই উপমার মূলভাবকে নির্দেশ করে।
সূরা বাকারার ১৭-২০ আয়াতে মুনাফিকদের অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা যেন এমন ব্যক্তি যে আলো জ্বালাল, কিন্তু আল্লাহ তাদের আলো ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদের অন্ধকারে ফেলে দিলেন, ফলে তারা কিছুই দেখতে পায় না। তারা বধির, মূক ও অন্ধ; তাই তারা সুপথে ফিরে আসতে পারে না।
উদ্দীপকে তালহা যেমন মন্তব্য করেছে যে কেবল বাহ্যিক আলোই যথেষ্ট নয়, মনের ইচ্ছা শক্তি বা অভ্যন্তরীণ হেদায়াত না থাকলে মানুষ পথ দেখতে পাবে না; তেমনি সূরা আল-বাকারায় বোঝানো হয়েছে যে, কুরআনের আলোকবর্তিকা থাকা সত্ত্বেও যাদের অন্তরে ঈমান ও সততা নেই, তারা বাহ্যিক সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত হেদায়াতবঞ্চিত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব জাফর সাহেবের পালনীয় ইবাদতটি হলো 'হজ', যা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন এবং যথাযথভাবে আদায় করলে তা ব্যক্তিকে নিষ্পাপ করে জান্নাত লাভের উপযোগী করে তোলে।
হজ সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার পালন করা ফরজ। ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম প্রধান ফরজ রুকন। মহানবি (সা.) বলেছেন, "আল-হাজ্জু আরাফাহ" অর্থাৎ আরাফাতে অবস্থানই হজ। আরাফাতের ময়দানে বান্দা কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজের পাপমোচনের আবেদন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ করল এবং কোনো অশ্লীল কথা ও পাপকর্মে লিপ্ত হলো না, সে সদ্যোজাত নিষ্পাপ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে" (সহিহ বুখারি)। হাদিস শরিফে আরও বর্ণিত আছে যে, "মাবরুর (কবুল) হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।"
জাফর সাহেব ইহরামের দুই টুকরা সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান করে দুনিয়ার ভোগবিলাস ত্যাগ করে আরাফাতে সমবেত হয়ে আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। তাঁর এই একনিষ্ঠ ইবাদত ও খাঁটি তাওবার মাধ্যমে অতীতের গুনাহ মাফ পেয়ে আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জিত হবে, যা চূড়ান্তভাবে তাঁকে জান্নাত লাভের উপযোগী করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও