সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সমাজকর্ম মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'খ' এর জীবিকা অর্জনের মাধ্যমকে কী বলে? 'ক' এর সাথে 'খ' এর সম্পর্ক লেখো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে সমাজকর্মের উন্নয়নে উদ্দীপক 'খ' এর জীবিকা অর্জনের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম মূল্যবোধ হলো এমন কিছু বিশ্বাস, মানদণ্ড ও আদর্শের সমষ্টি, যা সমাজকর্মীদের পেশাগত আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার হলো সমাজকর্মের একটি অন্যতম মৌলিক নীতিমালা বা মূল্যবোধ, যার অর্থ হলো সেবাগ্রহীতা বা সাহায্যার্থী নিজেই নিজের সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার স্বাধীনতা লাভ করবে। সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর ওপর জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না, বরং সাহায্যার্থী যাতে তার সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজের জীবনের সঠিক পথ নির্বাচন করতে পারে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন। এটি মূলত ব্যক্তির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও পছন্দ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'খ' এর জীবিকা অর্জনের মাধ্যমকে 'পেশা' (Profession) বলে। কারণ চিত্রে 'খ' তে একজন চিকিৎসককে দেখা যাচ্ছে, যা উচ্চতর তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণভিত্তিক জীবিকা। অন্যদিকে চিত্র 'ক'-তে ভিক্ষাবৃত্তি বা সাধারণ 'বৃত্তি' (Occupation) নির্দেশ করা হয়েছে।
'ক' (বৃত্তি) এর সাথে 'খ' (পেশা) এর সম্পর্ক:
১. বৃত্তি ও পেশা উভয়েই জীবিকা অর্জনের উপায়। প্রতিটি পেশাই মূলত একটি বৃত্তি, তবে সব বৃত্তি পেশা নয়।
২. পেশার জন্য সুনির্দিষ্ট বিশেষায়িত জ্ঞান, দীর্ঘমেয়াদি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, নীতিমালা এবং পেশাগত সংগঠনের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ বৃত্তিতে বাধ্যতামূলক নয়।
৩. বৃত্তির চেয়ে পেশায় সমাজকল্যাণ ও জনসেবামূলক মনোভাব অনেক বেশি প্রাধান্য পায়।
সুতরাং, পেশা হলো বৃত্তিরই একটি আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও সুসংগঠিত রূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে সমাজকর্মকে পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের জন্য উদ্দীপকের 'খ' (পেশা)-এর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি:
১. সুনির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত জ্ঞান: পেশা হতে হলে নিজস্ব তাত্ত্বিক জ্ঞানভাণ্ডার থাকতে হয়। বাংলাদেশে সমাজকর্ম বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকলেও এর মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে বিশেষায়িত জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. পেশাগত ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ: সমাজকর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠকর্ম বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সমাজকর্মকে উন্নত করতে হলে মানসম্পন্ন ও বাধ্যতামূলক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে হবে।
৩. নৈতিক আচরণবিধি ও নীতিমালা: প্রতিটি পেশার সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি (Code of Ethics) থাকে। বাংলাদেশে সমাজকর্মীদের জন্য কার্যকর জাতীয় পেশাগত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
৪. পেশাগত সংগঠন: পেশার মান বজায় রাখা ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য শক্তিশালী পেশাগত সংগঠন থাকা অপরিহার্য (যেমন- চিকিৎসকদের BMDC বা BMA)। বাংলাদেশে সমাজকর্মের উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ও সক্রিয় জাতীয় সমাজকর্ম কাউন্সিল বা সংগঠন গঠন আবশ্যক।
৫. রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি: বাংলাদেশে সমাজকর্মকে এখনো সরকারিভাবে স্বতন্ত্র কারিগরি পেশা হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই সমাজকর্মের সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি।
৬. জনকল্যাণমুখী মনোভাব: পেশার প্রধান লক্ষ্য কেবল অর্থ উপার্জন নয়, বরং সেবামূলক মনোভাব বজায় রাখা। বাংলাদেশে সমাজকর্মীদের এই সেবামূলক মনোভাবের চর্চা বাড়াতে হবে।
অতএব, উপর্যুক্ত পেশাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিশ্চিত ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সমাজকর্ম একটি সফল ও আধুনিক পেশা হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও