ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ফ্রান্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা ও স্বীকৃতি যুদ্ধকে স্বীকৃতি ও সমর্থন দেয়। এছাড়া ফ্রান্স অর্থ, বস্ত্র ও সৈন্য দিয়ে সাহায্য করে। এভাবে ফ্রান্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
জর্জ হ্যারিসন কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
- খ)(2)
ইন্দিরা গান্ধীর পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত দেশের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জর্জ হ্যারিসন যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেনের) নাগরিক ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন এবং বিশ্ব জনমত গঠনে অক্লান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং অর্থ, বস্ত্র ও সৈন্য দিয়ে পরম বন্ধুর ভূমিকা পালন করে।
অনুরূপভাবে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সর্বাত্মক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। ভারত পাকিস্তানি গণহত্যার শিকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ভরণপোষণ দেয়, মুক্তিযোদ্ধাদের (মুক্তিবাহিনী) প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে এবং বিশ্বদরবারে কূটনৈতিক সমর্থন আদায় করে। পরিশেষে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে এবং যৌথবাহিনী গঠন করে সরাসরি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অতএব, উদ্দীপকের সাথে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ ভূমিকার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অসামান্য ও বহুমুখী ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে অত্যন্ত ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের প্রত্যক্ষ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রথমত, ২৫শে মার্চের কালরাত্রির পর সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে ভারত এক কোটিরও বেশি বাঙালি শরণার্থীকে মানবিক আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা দেয়। এটি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, ভারত মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও রসদ প্রদান করে, যার ফলে বাঙালি তরুণরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সুসংগঠিত গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিভিন্ন দেশ সফর করে পাকিস্তানি বর্বরতার কথা তুলে ধরেন এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করেন।
তৃতীয়ত, ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালালে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। মিত্রবাহিনীর সমন্বিত ও দুর্বার আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে পুরোপুরি পরাস্ত হতে বাধ্য হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে ৯৩,০০০ সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
সুতরাং, ভারতের এমন সক্রিয় রাজনৈতিক, মানবিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকার কারণেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারত এমন একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মাত্র নয় মাসের মধ্যে সমাপ্ত হয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও