ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি বহুজাতিক কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে আইনের সীমাবদ্ধতায় বেশ কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এই প্রেক্ষিতে কোম্পানির, ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইন কোম্পানিটির ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও ত্রুটিমুক্ত ছিল না।
- ক)(1)
ব্রিটিশ ভারতের কোন গভর্নর জেনারেলকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়?
- খ)(2)
'সূর্যাস্ত আইন' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের প্রতিফলন ঘটেছে তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনের ত্রুটিসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের সম্মুখীন হতে হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার একটি অন্যতম শর্ত ছিল 'সূর্যাস্ত আইন'। এই আইন অনুযায়ী, জমিদারদের প্রতি বছর বাংলা সনের নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের পূর্বেই সরকারি খাজনা বা রাজস্ব নির্দিষ্ট কোষাগারে জমা দিতে হতো। নির্ধারিত দিনে সূর্যাস্তের মধ্যে রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হলে জমিদারের কোনো অজুহাত গ্রহণ না করে তার জমিদারি নিলামে বিক্রি করে বকেয়া রাজস্ব আদায় করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের প্রেক্ষাপট ব্রিটিশ ভারতের '১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট' (নিয়ামক আইন)-এর পটভূমির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
পটভূমি ব্যাখ্যা:
১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি, অবাধ লুণ্ঠন ও অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছায়। এর ফলে ১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) দেখা দেয়, যাতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে ১০ লক্ষ পাউন্ড ঋণ প্রার্থনা করে। অন্যদিকে কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি দেখে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ক্ষুব্ধ হয়। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ, ভারতে তাদের কার্যক্রমকে শৃঙ্খলায় আনা এবং একজন গভর্নর জেনারেলের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৭৭৩ সালে 'রেগুলেটিং অ্যাক্ট' পাস করে। উদ্দীপকে কোম্পানির ব্যাপক বিস্তৃতির পর নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়টি এই পটভূমিকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিফলিত ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনের কাঠামো তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। নিম্নে ত্রুটিসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গভর্নর জেনারেল ও কাউন্সিলের মধ্যকার বিরোধ: এই আইনে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে চার সদস্যের একটি কাউন্সিল দেওয়া হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নেওয়ার বিধান করা হয়েছিল। কিন্তু গভর্নর জেনারেলকে কোনো ভেটো ক্ষমতা না দেওয়ায় কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য (যেমন ফিলিপ ফ্রান্সিস গং) সবসময় হেস্টিংসের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেন, ফলে প্রশাসনিক অচল অবস্থা সৃষ্টি হতো।
২. সুপ্রিম কোর্ট ও গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিলের দ্বন্দ্ব: আইনে কলকাতায় একটি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হলেও সুপ্রিম কোর্টের এবং গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের বিচারিক এখতিয়ার সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে উভয়ের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় (যেমন নন্দকুমারের ফাঁসি বিতর্ক)।
৩. বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ওপর অসম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: আইন অনুযায়ী কলকাতা প্রেসিডেন্সি ও গভর্নর জেনারেলকে অন্যান্য প্রেসিডেন্সির ওপর তদারকির ক্ষমতা দেওয়া হলেও তা ছিল অস্পষ্ট ও সীমাবদ্ধ। যুদ্ধ ও শান্তির ব্যাপারে তারা প্রায়ই কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করত।
মতামত: রেগুলেটিং অ্যাক্ট কোম্পানির স্বেচ্ছাচারিতা কমাতে এবং একটি প্রশাসনিক রূপরেখা দিতে সহায়ক ছিল, কিন্তু আইনটির অভ্যন্তরীণ অস্পষ্টতা ও ভারসাম্যের অভাবের কারণে এটি প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। এই ত্রুটিগুলো দূর করতেই পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারকে ১৭৮৪ সালের 'পিটের ভারত শাসন আইন' প্রণয়ন করতে হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও