ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
২০২০ সালের ৫ মে ভারতীয় ও চীনা সেনারা তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার প্রতিবাদে ভারত 'বয়কট চীন' কর্মসূচি গ্রহণ করে। ভারতজুড়ে তখন একটাই স্লোগান "চীনের জিনিস চাইনা"। এছাড়াও কলকাতার বড় বাজারে চীনা পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়।
- ক)(1)
ভারতবর্ষের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসন কয় ভাগে বিভক্ত?
- খ)(2)
হান্টার কমিশন ঘটনা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
এই আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয় কেন? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতবর্ষের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসন মূলত দুই ভাগে বিভক্ত (যথা: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকাল: ১৭৫৭-১৮৫৮ এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ শাসনকাল: ১৮৫৮-১৯৪৭)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড রিপন কর্তৃক ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত শিক্ষা কমিশনকে হান্টার কমিশন বলা হয়। এই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচের সুপারিশসমূহ কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা পর্যালোচনা করা এবং ভারতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক সুপারিশ প্রণয়ন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ধারা 'বয়কট আন্দোলন' বা 'স্বদেশী আন্দোলন'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করলে এর প্রতিবাদে বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু করে। বিদেশি কাপড় ও জিনিসপত্র আগুনে পোড়ানো হয়। একইভাবে উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমান্তে সংঘর্ষ ও সেনা নিহতের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে 'বয়কট চীন' কর্মসূচি এবং কলকাতার বাজারে চীনা পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাই এই ঘটনাটি বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী বয়কট বা স্বদেশী আন্দোলনের অনুরূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী বা স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনটি সর্বভারতীয় বা সামগ্রিক জাতীয় পর্যায়ে স্থায়ীভাবে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এর প্রধান কারণ ছিল এই আন্দোলনের চরিত্র ছিল মূলত হিন্দু ভদ্রলোক শ্রেণি ও উচ্চবর্ণের জাতীয়তাবাদীদের কেন্দ্রিক। বৃহত্তর মুসলিম সমাজের কাছে এটি বঙ্গভঙ্গ রদ করার হিন্দুয়ানি আন্দোলন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছিল, কারণ তারা নতুন প্রদেশের সুবিধাসমূহ হারাতে চায়নি। ফলে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব তৈরি হয়। এছাড়া বিদেশি পণ্য বয়কট করায় অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের ও ব্যয়বহুল দেশীয় পণ্য ক্রয় সাধারণ দরিদ্র কৃষক-প্রজাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আন্দোলনের ধর্মীয় প্রতীকায়নের কারণেও সকল শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্তি ঘটেনি। তাই এটি সব সম্প্রদায়ের মিলিত জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও