ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
স্পেনীয়রা কৃষিপ্রধান দেশ ব্রাজিল দখল করে সেখানে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্পেনিশ চালু করে। তাছাড়া খ্রিষ্টানদের কৃষিজমি ক্রয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের উপর যে কর রেয়াত প্রচলিত ছিল তা রহিত করে। ফলে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে জনগণের যে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল সেসব থেকে তারা বঞ্চিত হয়।
- ক)(1)
খলিফা আবদুল মালিক কোন বংশের শাসক ছিলেন?
- খ)(2)
সংক্ষেপে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের দাপ্তরিক ভাষা প্রচলনের মতো খলিফা আবদুল মালিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে স্পেনের গৃহীত পদক্ষেপের আলোকে খলিফা আবদুল মালিকের রাজস্ব সংস্কার আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের শাসক ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খিলাফতের একজন অত্যন্ত দক্ষ, প্রভাবশালী এবং কঠোর প্রশাসক। খলিফা আবদুল মালিকের সময়ে তিনি ইরাক ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহসমূহ (যেমন ইবনুল জুবায়েরের বিদ্রোহ) কঠোর হাতে দমন করে খিলাফতের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর নিষ্ঠুরতা ও দমননীতির কারণে তিনি ইতিহাসে যেমন সমালোচিত, তেমনই তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যও স্মরণীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে স্পেনীয়দের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্প্যানিশ ভাষা চালু করার পদক্ষেপের সাথে খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক 'আরবিকরণ' বা আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রবর্তনের পদক্ষেপের গভীর মিল রয়েছে।
খলিফা আবদুল মালিকের খিলাফত লাভের পূর্বে উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রিক, পাহলভি (ফারসি) ও কপ্টিক ভাষায় দাপ্তরিক ও হিসাব সংক্রান্ত কাজকর্ম পরিচালিত হতো। ফলে অনারব কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনকে অতিরিক্ত নির্ভর করতে হতো। সাম্রাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং প্রশাসনের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে খলিফা আবদুল মালিক ৬৯৭ খ্রিস্টাব্দে আরবিকে সাম্রাজ্যের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ও দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে স্পেনীয়রা যেভাবে স্থানীয় ভাষার পরিবর্তে নিজেদের ভাষা চালু করেছিল, খলিফা আবদুল মালিকও তেমনি সমগ্র খিলাফতের দাপ্তরিক নথিপত্র আরবি ভাষায় রূপান্তর করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে স্পেনীয়রা যেমন খ্রিষ্টানদের কৃষিজমি ক্রয় বন্ধ ও কর রেয়াত রহিত করেছিল, তেমনই খলিফা আবদুল মালিকের সময়েও কৃষিজমি ও রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধিত হয়েছিল।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিয়ম ছিল, কোনো অমুসলিম (জিম্মি) ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে 'জিজিয়া' (নিরাপত্তা কর) দিতে হতো না এবং নতুন মুসলিম হিসেবে তারা খারাজের (ভূমি রাজস্ব) পরিবর্তে উশর প্রদান করত। এতে বহু অমুসলিম কৃষক ইসলাম গ্রহণ করে নগরমুখী হতে থাকে। ফলে একদিকে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে জিজিয়া ও খারাজ থেকে রাজস্ব আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
এই রাজস্ব সংকট দূর করার জন্য খলিফা আবদুল মালিক তাঁর গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরামর্শে সংস্কার করেন। তিনি নিয়ম জারি করেন যে, কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেও তার কৃষি জমির ওপর থেকে খারাজ প্রত্যাহার করা হবে না এবং নব্য মুসলিম কৃষকদেরকে নিজ নিজ ভূমিতে ফিরে গিয়ে চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে বাধ্য করা হয়। উদ্দীপকের স্পেনীয় পদক্ষেপগুলোর মতো আবদুল মালিকের এই রাজস্ব সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কৃষিব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও