ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

খলিফা জাহিন রহমান সুদীর্ঘ তেইশ বছর শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে বিজ্ঞান, দর্শন ও শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেন। তিনি সুশাসনের জন্য সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে এবং প্রদেশকে কয়েকটি জেলায় বিভক্ত করেন। তিনি ধীশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাকে তার রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় ।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    'দারুল হিকমা' কী? ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফাতেমীয় বংশের কোন খলিফার বৈশিষ্ট্যাবলি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যে উক্ত খলিফার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আংশিক ফুটে উঠেছে— তোমার উত্তরের পক্ষে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দারুল হিকমা' (জ্ঞানের গৃহ) হলো ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক মিশরের কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত উচ্চতর জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাগদাদের 'বাইতুল হিকমা'র অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখানে একটি বিশাল সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ছিল এবং জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার সুযোগ ছিল। বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থী ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা এসে এখানে জ্ঞানচর্চা করতেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফাতেমীয় বংশের শ্রেষ্ঠ ও অন্যতম শাসক খলিফা আল-মুইজের বৈশিষ্ট্যাবলি ফুটে উঠেছে।

    ফাতেমীয় বংশের চতুর্থ খলিফা আল-মুইজ সুদীর্ঘ তেইশ বছর (৯৫৩-৯৭৫ খ্রি.) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং তাঁর বিজ্ঞ সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে মিশর বিজয় করেন ও নতুন রাজধানী কায়রো প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সুশাসনের জন্য সুষ্ঠু প্রশাসনিক সংস্কার করেন। শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শনের পৃষ্ঠপোষকতা করে তিনি ফাতেমীয় রাজবংশের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন। এ কারণেই ঐতিহাসিকগণ আল-মুইজকে ফাতেমীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    উদ্দীপকের 'খলিফা জাহিন রহমান'-এর দীর্ঘ তেইশ বছর শাসন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন এবং রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার বিষয়টি খলিফা আল-মুইজের সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে খলিফা আল-মুইজের বহুবিধ প্রতিভার মধ্যে কেবল আংশিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে— বক্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে মূলত তাঁর তেইশ বছরের শাসনকাল, প্রশাসনিক বিভাজন, প্রজ্ঞা এবং বিদ্যা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আল-মুইজের সামগ্রিক চরিত্র ও কৃতিত্ব আরও ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত ছিল:

    ১. সামরিক ও কূটনৈতিক দক্ষতা: আল-মুইজ একজন অসাধারণ সামরিক সংগঠক ছিলেন। তিনি তাঁর যোগ্য সেনাপতি জওহর আল-সিকিলির মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকা থেকে মিশর ও সিরিয়া বিজয় করে ফাতেমীয়দের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেন।
    ২. নতুন রাজধানী ও আল-আজহার প্রতিষ্ঠা: মিশর বিজয়ের পর তিনি বিখ্যাত রাজধানী শহর 'আল-কাহিরা' (কায়রো) এবং বিখ্যাত 'আল-আজহার' মসজিদ তথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
    ৩. পরমতসহিষ্ণুতা ও উদারতা: তিনি অমুসলিম (খ্রিষ্টান ও ইহুদি) প্রজাদের প্রতি অত্যন্ত উদার ছিলেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদেরকে উচ্চ রাজপদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
    ৪. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: তিনি উন্নত কর ব্যবস্থা চালু ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে খিলাফতকে বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

    অতএব, উদ্দীপকে আল-মুইজের প্রশাসনিক ও জ্ঞানানুরাগী রূপটি প্রকাশিত হলেও তাঁর সামরিক প্রতিভা, ধর্মীয় উদারতা, স্থাপত্য ও অর্থনৈতিক সাফল্যের মতো বহু চারিত্রিক দিক অনুক্ত থাকায় বলা যায় তাঁর বৈশিষ্ট্য আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন