‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি অঞ্চলের জনগণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষিতে একটি সরকার গঠন করে। উক্ত সরকার নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় ।

  1. ক)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের কারণ কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সরকারের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উক্ত সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়েছিল” – উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (সামরিক সর্বাধিনায়ক বা প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষপর্যায়ে বাঙালি জাতিকে মেধা ও চিন্তাশূন্য করে একটি পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করার হীন উদ্দেশ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

    মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় এদেশের প্রখ্যাত শিক্ষক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রকৌশলীদের পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত 'মুজিবনগর সরকার' বা 'প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে বিমাতাসুলভ আচরণ ও অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নির্বিচার আক্রমণ শুরু করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত হয় প্রবাসী সরকার (মুজিবনগর সরকার)। উদ্দীপকেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের নেতার স্বাধীনতার ঘোষণার পর একটি সরকার গঠিত হয়, যা মুজিবনগর সরকারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়েছিল”—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যৌক্তিকতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই লক্ষ্যে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্বে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা ও বাঙালির স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেন। এ ছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মিশন ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং বহু বাঙালি কূটনীতিক পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

    মুজিবনগর সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের পক্ষে জাগ্রত হয় এবং ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক, সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের বর্বরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং কোনো বহিঃশত্রুর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন