ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' দেশটি প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়ার স্থলভাগের সংযোগস্থলে অবস্থিত। চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই দেশটি গঠিত। দেশটি দুই ধরনের শিল্পে অনেক উন্নত। একটি শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। অপর শিল্পের কাঁচামাল তুলা' যা উৎপাদনে দেশটি বিশ্বে অষ্টম।

  1. ক)

    শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শ্রমিকের নিরাপত্তা শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দেশটিতে আমদানিকৃত কাঁচামালের দ্বারা তৈরি শিল্পের উৎপাদন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশটিতে উল্লিখিত শিল্প গড়ে উঠার কারণ বিশ্লেষণ – করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা সুবিধাজনক স্থানে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এক বা একাধিক শিল্পের কেন্দ্রীভূত হওয়াকে শিল্পের স্থানীয়করণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্পায়নের চাকা সচল রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ থাকলে শ্রমিকরা নিশ্চিন্তে এবং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে, যা কারখানার সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করে। অপরদিকে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব থাকলে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটে, শ্রম অসন্তোষ ও ধর্মঘটের সৃষ্টি হয়, যা শিল্পায়নের গতিকে ব্যাহত করে। তাই টেকসই শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে শ্রমিকের জীবনের ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইঙ্গিতপূর্ণ 'ক' দেশটি হলো জাপান। দেশটিতে আমদানিকৃত কাঁচামাল দ্বারা গড়ে ওঠা প্রধান শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প।

    জাপানের নিজস্ব খনিজ সম্পদ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আকরিক লোহা, কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামাল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশ থেকে সমুদ্রপথে আমদানি করতে হয়। কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও জাপান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশ। দেশটির প্রধান প্রধান লৌহ ও ইস্পাত শিল্পাঞ্চলগুলো উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যেমন—ইয়াকোহামা-টোকিও অঞ্চল, ওসাকা-কোবে অঞ্চল এবং উত্তর কিউশু অঞ্চল। উন্নত প্রযুক্তি, সুদক্ষ কারিগরি জ্ঞান এবং সাশ্রয়ী সমুদ্র পরিবহনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জাপান উচ্চমানের লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন করে থাকে, যা দেশটির জাহাজ নির্মাণ ও মোটরগাড়ি শিল্পের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাপানের লৌহ-ইস্পাত শিল্প এবং বস্ত্রশিল্প (কার্পাস বয়ন শিল্প)-এর বিকাশের কথা বলা হয়েছে। কাঁচামালের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জাপানে এই শিল্পগুলো গড়ে ওঠার প্রধান কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান ও বন্দর সুবিধা: চারদিকে সমুদ্র পরিবেষ্টিত হওয়ায় জাপানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহু পোতাশ্রয় গড়ে উঠেছে। ফলে বিদেশ থেকে কয়লা, লোহা ও তুলা আমদানি করা এবং উৎপাদিত শিল্পপণ্য রপ্তানি করা অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।
    ২. উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কারিগরি জ্ঞান: জাপানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশন ব্যবস্থার কারণে স্বল্প খরচে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।
    ৩. সস্তা ও পর্যাপ্ত জলবিদ্যুৎ শক্তি: খনিজ জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে জাপান পাহাড়ি নদীগুলোকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করে শিল্পে কাজে লাগায়।
    ৪. দক্ষ ও পরিশ্রমী শ্রমিক: জাপানের শ্রমিকরা অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী, দক্ষ ও কর্মঠ, যা শিল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
    ৫. মূলধন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা: সরকারের বাস্তবমুখী শিল্পনীতি এবং পর্যাপ্ত মূলধন বিনিয়োগের ফলে এই শিল্পগুলো দ্রুত বিকশিত হয়েছে।
    ৬. অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার: জাপানের নিজস্ব শিল্প ও জনগণের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জাপানি পণ্যের ব্যাপক সুনাম ও বিপুল চাহিদা রয়েছে।

    সুতরাং, কাঁচামালের অভাব থাকলেও মূলত উন্নত প্রযুক্তি, সহজ বন্দর সুবিধা, সুলভ বিদ্যুৎ এবং মানবসম্পদের দক্ষতার কারণেই জাপানে উল্লিখিত শিল্পসমূহ ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন