কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পোল্ট্রি কী?
- খ)(2)
খাঁচায় মুরগি পালন সুবিধাজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-ক তে প্রদর্শিত মুরগিটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুরগিটি পালন করা কি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোল্ট্রি বলতে সাধারণত এমন সব গৃহপালিত পাখিকে বোঝায়, যাদের মানুষ ডিম ও মাংস উৎপাদনসহ অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য লালন-পালন করে থাকে (যেমন—মুরগি, হাঁস, কোয়েল, কবুতর, রাজহাঁস ও টার্কি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাঁচায় মুরগি পালন সুবিধাজনক হওয়ার কারণ হলো—এ পদ্ধতিতে মুরগির খাদ্য ও পানির অপচয় কম হয়, রোগজীবাণু বা পরজীবীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক মুরগি পালন করা যায়। তাছাড়া খাঁচায় প্রতিটি মুরগির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যায়, ডিম নষ্ট বা নোংরা হওয়ার সুযোগ থাকে না এবং ডিম সংগ্রহ করা সহজ হয়। এতে লিটার ব্যবস্থাপনার ঝামেলা ও খরচও কমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-ক তে প্রদর্শিত মুরগিটি হলো আমেরিকান শ্রেণীর 'প্লাইমাউথ রক' (Plymouth Rock) জাতের মুরগি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দৈহিক গঠন: এর দেহ বেশ ভারী, লম্বা ও গভীর। পিঠ চওড়া ও সমতল এবং বুক গভীর ও মাংসল।
২. পালকের রং: এদের পালকে কালো ও সাদা রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে (বার্ড জাতের ক্ষেত্রে)।
৩. চামড়া ও পায়ের রং: এদের ত্বক, চঞ্চু ও পায়ের নলি হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে।
৪. কান ও ঝুঁটি: এদের ঝুঁটি একক (single comb), মাঝারি আকারের ও উজ্জ্বল লাল বর্ণের। কানের লতিও লাল রঙের হয়।
৫. উদ্দেশ্য ও উৎপাদন: এটি একটি দ্বৈত উদ্দেশ্যভিত্তিক (মাংস ও ডিম উভয় উৎপাদনকারী) জাত। পূর্ণবয়স্ক মোরগের ওজন প্রায় ৪-৪.৫ কেজি এবং মুরগির ওজন প্রায় ৩-৩.৫ কেজি হয়। এরা বছরে গড়ে প্রায় ১৮০–২০০টি বাদামি রঙের ডিম দিয়ে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'প্লাইমাউথ রক' জাতের মুরগি পালন করা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. দ্বৈত উদ্দেশ্যের উপযোগিতা: প্লাইমাউথ রক মুরগি একই সাথে উন্নতমানের মাংস এবং পর্যাপ্ত ডিম দিয়ে থাকে। ফলে খামারি মাংস এবং ডিম উভয় থেকেই দ্বৈত আয় করতে পারেন।
২. শারীরিক বৃদ্ধি ও মাংস উৎপাদন: এদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে এবং মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রাপ্তবয়স্ক মোরগ ও মুরগির ওজন বেশি হওয়ায় বাজারে এর মাংসের চড়া মূল্য পাওয়া যায়।
৩. সহনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এই জাতের মুরগি বিভিন্ন প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করতে পারে এবং দেশি পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য বিদেশি ব্রয়লার বা লেয়ারের তুলনায় বেশি হওয়ায় চিকিৎসাব্যয় ও মৃত্যুহার কম থাকে।
৪. খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা: এরা বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহকৃত সুষম খাদ্যের পাশাপাশি খামারের সহজলভ্য বা সাধারণ দানাদার খাদ্য দক্ষতার সাথে গ্রহণ করে দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, যা উৎপাদন খরচ কমায়।
৫. বাজার চাহিদা: এদের বাদামি ডিম ও দেশি মুরগির মতো মাংসের বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে, ফলে সহজে ও ভালো মূল্যে তা বিক্রি করা সম্ভব।অতএব, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্লাইমাউথ রক মুরগি বাণিজ্যিকভাবে পালন করলে স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও