‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিতে জার্মানি দুটি অংশে বিভক্ত হয়। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ দুর্বল হয়ে পড়লে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে একটি চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির দুই অংশের একত্রীকরণ সম্পন্ন হয়।

  1. ক)

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    ইলবার্ট বিল কি? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    Divide and Rule ব্রিটিশ শাসকদের কৌশল - পাঠ্য বইয়ের নিরিখে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (এ. ও. হিউম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের আইনসভার সদস্য স্যার সি. পি. ইলবার্ট ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করেন, যা 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ে কোনো ভারতীয় বিচারক শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর বিচার করতে পারতেন না। ইলবার্ট বিল এই বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নিলে ভারতে বসবাসকারী ব্রিটিশরা এর তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের আন্দোলনের মুখে বিলটি সংশোধন করে ভারতীয় বিচারকদের ক্ষমতা সংকুচিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জার্মানির বিভক্তি এবং পরবর্তীকালে একত্রীকরণের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ' বা বঙ্গদেশের একত্রীকরণের ঘটনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মতাদর্শগত কারণে জার্মানি বিভক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয়। একইভাবে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে বৃহৎ বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ নামে দুটি আলাদা প্রদেশ গঠন করেন। এই বিভক্তির পেছনে ব্রিটিশদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দুর্বল করা। তবে তীব্র স্বদেশী ও বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে এবং ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে বাংলা পুনরায় একত্রিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Divide and Rule' বা 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি ছিল ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কৌশল। ভারতীয়দের ঐক্য বিনষ্ট করে দীর্ঘকাল শাসনভার ধরে রাখাই ছিল এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ছিল এই নীতিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল অবিভক্ত বাংলা। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বিদ্যমান ছিল। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী, বিশেষ করে লর্ড কার্জন উপলব্ধি করেছিলেন যে বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও জাতীয়তাবাদীদের ঐক্য ভাঙতে না পারলে ব্রিটিশ শাসন হুমকির মুখে পড়বে। তাই ধর্মীয় ও ভৌগোলিক বিভাজন তৈরি করতে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং তাদের হিন্দুদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। এর মাধ্যমে তারা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়।

    শুধু বঙ্গভঙ্গই নয়, পরবর্তীকালে ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই বিভেদনীতি অব্যাহত রাখা হয়। অতএব, ব্রিটিশরা ভারতীয়দের ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে তাদের শাসন সুদৃঢ় রাখার হাতিয়ার হিসেবে 'Divide and Rule' কৌশল নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন