‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে সেনা-সমর্থিত ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবি ঘটিয়ে গণতন্ত্রকামী নেত্রী অংসান সুচি'র বিরোধী দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয়ী হয়েছে। উচ্চ ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে সুচি'র দল ৮৫ শতাংশ আসন পেয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়। দেশটিতে গত ২৫ বছরের মধ্যে এটাই ছিল। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক নির্বাচন।

  1. ক)

    কত তারিখে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতকে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'কালরাত' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সাথে তোমার পাঠ্যবই-এর কোন নির্বাচনের ফলাফলের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্ত পাকিস্তানের মৃত্যু ঘণ্টা বেজে উঠে- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু করে। 'অপারেশন সার্চলাইট' নামের এই বর্বর অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করা হয়। মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও বর্বরোচিত এ হত্যাযজ্ঞের কারণে ২৫ মার্চের রাতকে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'কালরাত' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সামরিক শাসনাধীন থাকার পর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামরিক দল পরাজিত হয় এবং গণতন্ত্রকামী অং সান সু চির দল নিরঙ্কুশ বা ৮৫ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

    একইভাবে, আইয়ুব ও ইয়াহিয়া খানের দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৭০ সালে সমগ্র পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (সংরক্ষিত ৭টি সহ) এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। উভয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেই সামরিক আধিপত্য ভেঙে জনগণের গণতান্ত্রিক শক্তির বিপুল বিজয় সূচিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্ত পাকিস্তানের মৃত্যু ঘণ্টা বেজে উঠে”— উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগণের বিপুল রায়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে স্পষ্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের গণবিরোধী নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

    ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আকস্মিকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হলে বাঙালি জাতি বুঝতে পারে যে গণতান্ত্রিক পথে অধিকার আদায় অসম্ভব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। এরপর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অখণ্ড পাকিস্তানের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

    অতএব, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তৎপরবর্তী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্রই চূড়ান্তভাবে যুক্ত পাকিস্তানের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন