ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মোহনপুর এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে সবসময় হানাহানি, সংঘাত লেগেই থাকে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাচিত মেম্বার রয়েছে। নিজ ওয়ার্ডে না হলেও ফসল কাটা, মাছ ধরা, পশুপালন ইত্যাদি নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আন্তঃকলহ লেগেই থাকে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নারীদের। পুরুষরা তাদের অভিশাপ ও বোঝা মনে করে।
- ক)(1)
ইয়েমেন শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
হানিফ কারা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ওয়ার্ড ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন আরবের কোন প্রথার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে প্রাচীন আরবের নারীদের অবস্থা মূল্যায়ন। করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ সুখী, সমৃদ্ধিশালী বা সৌভাগ্যবান (বা দক্ষিণ দিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে পৌত্তলিকতার চরম অন্ধকারের মাঝেও যারা একত্ববাদে বিশ্বাস করতেন এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রদর্শিত একেশ্বরবাদী ধর্মাদর্শ মেনে চলার চেষ্টা করতেন, তাদের 'হানিফ' বলা হয়। হানিফরা মূর্তিপূজা বর্জন করে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত হতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ওয়ার্ড ব্যবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি বা প্রাচীন আরবের 'গোত্র ব্যবস্থা'র (Tribal system) মিল রয়েছে।
প্রাচীন আরবে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রশাসন ছিল না। সমাজ ছিল বিভিন্ন স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত গোত্রে বিভক্ত। প্রতিটি গোত্রের নেতৃত্ব দিতেন একজন দলপতি বা 'শায়খ'। বিভিন্ন গোত্র নিজ নিজ স্বার্থে সামান্য কারণে, যেমন—পশুপালন, চারণভূমি দখল, পানির কূপ ও উট নিয়ে একে অপরের সাথে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হতো। উদ্দীপকে মোহনপুর এলাকায় কোনো কেন্দ্রীয় ঐক্য নেই; সেখানে ওয়ার্ডভিত্তিক বিভক্ত সমাজ এবং নির্বাচিত মেম্বারদের উপস্থিতি আরবের শায়খভিত্তিক গোত্রীয় শাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তদুপরি, ফসল কাটা, মাছ ধরা ও পশুপালন নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যে কলহ লেগেই থাকে, তা প্রাক-ইসলামি আরবের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুদ্ধবিগ্রহের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে প্রাক-ইসলামি অজ্ঞতার যুগ তথা 'আইয়ামে জাহিলিয়া'য় নারীদের চরম অমর্যাদাকর ও করুণ সামাজিক অবস্থার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রাক-ইসলামি আরবে নারীদের সমাজে কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় অধিকার ছিল না। তাদেরকে কোনো সম্মানজনক মর্যাদা দেওয়া হতো না; বরং ভোগ-বিলাসের সামগ্রী ও পুরুষের সম্পত্তি মনে করা হতো। কন্যাসন্তানের জন্মকে পরিবারের জন্য চরম অপমানের ও দারিদ্র্যের কারণ বিবেচনা করে জীবন্ত প্রোথিত (ওয়াদ) করা হতো। বহুবিবাহের কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না এবং সম্পত্তিতে তাদের কোনো উত্তরাধিকার ছিল না।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মোহনপুর এলাকায় নারীদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় এবং পুরুষরা তাদের অভিশাপ ও বোঝা মনে করে। এটি প্রাচীন আরবের নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির হুবহু প্রতিচ্ছবি। সেখানেও কন্যাসন্তানকে অভিশাপ, বোঝা ও অসম্মানের প্রতীক মনে করা হতো। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মোহনপুর এলাকার নারীদের দুর্দশা প্রাক-ইসলামি অন্ধকার যুগের নারীদের চরম অবমাননাকর ও নিপীড়িত বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও