পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'চ' রাষ্ট্রে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকারও নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। সংবিধানের মাধ্যমে 'চ' রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যের/প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে। 'ছ' রাষ্ট্রটি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত।
- ক)(1)
দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা কাকে বলে?
- খ)(2)
নির্বাচকমণ্ডলী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে 'চ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'চ' ও 'ছ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় প্রধানত দুটি রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকে এবং পালাক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে সকল নাগরিকের ভোট প্রদানের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার থাকে, তাদের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে। নির্বাচকমণ্ডলী মূলত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন ও পরিচালনায় ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে 'চ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা (Federal Government)।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক বা অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়। উভয় সরকারই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'চ' রাষ্ট্রে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে এবং সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যের সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলোও নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি আদর্শ যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। অতএব, 'চ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'চ' রাষ্ট্রটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা এবং 'ছ' রাষ্ট্রটি একনায়কতান্ত্রিক বা এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. ক্ষমতার উৎস ও বণ্টন: 'চ' অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমেই কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। কিন্তু 'ছ' অর্থাৎ এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সমুদয় শাসন ক্ষমতা একক কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে; কোনো অঙ্গরাজ্য বা প্রদেশের সাংবিধানিক সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে না।
২. আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন: 'চ' রাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা প্রয়োগের স্বাধীনতা রয়েছে। অন্যদিকে, 'ছ' রাষ্ট্রে প্রদেশ বা অঞ্চলগুলো প্রশাসনিক সুবিধার জন্য কেন্দ্রের অধীন থেকে কেন্দ্রের নির্দেশ পালন করে মাত্র, তাদের কোনো স্বাধীন কর্তৃত্ব থাকে না।
৩. সংবিধানের প্রকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সংবিধান সাধারণত লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হয় এবং সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত হয়। এককেন্দ্রিক সরকারে সংবিধান সুপরিবর্তনীয় বা লিখিত-অলিখিত উভয়ই হতে পারে।
৪. উপযোগিতা: আয়তনে বিশাল এবং জাতিগত বা ভাষাগত বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশের জন্য 'চ' রাষ্ট্রের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা উপযোগী। অপরদিকে ভৌগোলিক দিক থেকে ছোট এবং একক জাতীয়তাবাদী দেশের জন্য 'ছ' রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা বেশি কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়ক।
সুতরাং, ক্ষমতার বণ্টন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিক থেকে 'চ' (যুক্তরাষ্ট্রীয়) এবং 'ছ' (এককেন্দ্রিক) রাষ্ট্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও