পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
আধুনিক রাষ্ট্রগুলো আয়তনে যেমন বিশাল, তেমনি জনসংখ্যায়ও বিপুল। তাই জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। তাই আধুনিক গণতন্ত্রকে বলা হয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বা পরোক্ষ গণতন্ত্র। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল। প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রের অনেক কাজ করে থাকে। তাই রাজনৈতিক দলের গুরুত্বও অনেক বেশি। রাজনৈতিক দলের বাইরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীও রয়েছে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
- ক)(1)
বাংলাদেশে কোন ধরনের দল ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে?
- খ)(2)
দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় প্রধানত দুটি রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকে এবং পালাক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রধানত দুটি শক্তিশালী দলের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য থাকে নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও পরিচালনা করা। অপরদিকে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য ক্ষমতা দখল নয়; বরং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের বিশেষ স্বার্থ হাসিল করা।
২. সদস্যপদ ও আওতা: রাজনৈতিক দলের আওতা ব্যাপক এবং সমাজের সব স্তরের নাগরিক এর সদস্য হতে পারে। অন্যদিকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা স্বার্থের ভিত্তিতে গঠিত হয় (যেমন- শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষক সমিতি)।
৩. নির্বাচনে অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় ও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও নীতিতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে।
৪. দায়বদ্ধতা: রাজনৈতিক দলকে সামগ্রিক জনস্বার্থ ও জাতীয় কল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়। অন্যদিকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী মূলত নিজস্ব গোষ্ঠিস্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এগুলোর বিশদ আলোচনা করা হলো:
১. জনমত গঠন: রাজনৈতিক দলসমূহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও প্রচারণার মাধ্যমে জনমতকে সুসংগঠিত ও জাগ্রত করে।
২. প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচন পরিচালনা: গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন দেয় এবং নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগে জনগণকে উৎসাহিত করে।
৩. সরকার গঠন: সাধারণ নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তারা মন্ত্রিসভা তথা সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
৪. বিরোধী দলের ভূমিকা: নির্বাচনে পরাজিত দলগুলো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। তারা সরকারের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে স্বৈরাচারী হওয়া থেকে বিরত রাখে।
৫. নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন: রাজনৈতিক দল নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি তৈরি করে এবং ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়ন করে।
৬. সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন: রাজনৈতিক দল জনগণের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছে দেয় এবং সরকারের গৃহীত নীতি ও কার্যক্রম জনগণকে বুঝিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।সুতরাং, রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র কল্পনা করা যায় না; এটি গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও