পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। তাই মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা কষ্টকর, এর চেয়ে আরো অনেক বেশি কষ্টকর স্বাধীনতাকে রক্ষা করা। কীভাবে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা যায় এই সম্পর্কে দার্শনিকগণ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলেছেন। এই পদ্ধতিগুলোকে বলা হয় স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
- ক)(1)
স্বাধীনতা কাকে বলে?
- খ)(2)
আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
আইনের প্রাচীন উৎসটি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্বাধীনতা পাঁচটি রক্ষাকবচ বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে মানুষের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্বাধীনতা বলতে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও অধিকার ভোগ করাকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা। এর অর্থ হলো আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত নির্বিশেষে সবাই সমান এবং বিনা বিচারে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের অধীন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের সবচেয়ে প্রাচীন উৎস হলো 'প্রথা'।
প্রাচীনকালে মানুষ যখন সমাজে বসবাস শুরু করে, তখন রাষ্ট্র বা লিখিত কোনো আইন ছিল না। সে সময় মানুষ তাদের জীবন পরিচালনার জন্য কিছু আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও অভ্যাস মেনে চলত। কালক্রমে এসব রীতিনীতি ও প্রথা সমাজে দৃঢ়মূল হয়ে ওঠে এবং মানুষ অভ্যাসবশত তা মেনে চলতে থাকে। পরবর্তীকালে রাষ্ট্র যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এসব সামাজিক প্রথা রাষ্ট্রীয় অনুমোদন লাভ করে আইনে রূপান্তরিত হয়। যেমন, যুক্তরাজ্যের সংবিধান ও আইনের একটি বিরাট অংশ প্রাচীন প্রথা ও রীতিনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীনতার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. আইন: আইন হলো স্বাধীনতার সবচেয়ে প্রধান রক্ষাকবচ। জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।" আইন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
২. আইনের শাসন: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে নাগরিকরা স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত থাকে। এতে সবাই আইনের অধীনে সমান অধিকার ভোগ করে এবং বলপ্রয়োগ বা স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয় না।
৩. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: সরকারের তিনটি বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ যদি পরস্পরের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে স্বৈরাচার রোধ হয় এবং নাগরিক স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বিচার লাভ করতে পারে।
৫. জাগ্রত জনমত ও গণতান্ত্রিক চেতনা: নাগরিকদের সজাগ দৃষ্টি ও অধিকার সচেতনতাই স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ। নাগরিকরা সচেতন না হলে যেকোনো সময় স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। অধ্যাপক ল্যাস্কির মতে, "চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূল্য।"
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও