পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ক্লাসে শিক্ষক পৌরনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন যে, পৌরনীতির বিষয়বস্তু ব্যাপক। তিনি আরো বললেন, যা কিছু নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে, তা নিয়েই পৌরনীতি আলোচনা করে। ক্লাসে ছাত্ররা শিক্ষকের বিষয় উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে পরস্পর বলতে লাগল যে পৌরনীতি বিষয়টি পাঠ্য বিষয় হিসেবে পড়লে নাগরিক, রাষ্ট্র, সরকার, আন্তর্জাতিক সংগঠন ইত্যাদি সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানা যাবে।
- ক)(1)
পৌরনীতি সম্পর্কেই ই এম হোয়াইটের সংজ্ঞা লেখো।
- খ)(2)
উৎপত্তি ও শব্দগত অর্থে পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'যা কিছু নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে, তা নিয়েই পৌরনীতি আলোচনা করে'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে করো নাগরিক হিসেবে পৌরনীতি পাঠের প্রয়োজন রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইট (E. M. White)-এর মতে, "পৌরনীতি হলো জ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা, যা নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও মানবতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।"
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Civics'। Civics শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Civis' (নাগরিক) এবং 'Civitas' (নগর-রাষ্ট্র) থেকে। সুতরাং, উৎপত্তি ও শব্দগত অর্থে পৌরনীতি হলো নগর-রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের আচরণ, কার্যাবলি এবং অধিকার ও কর্তব্য সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের উক্তিটি দ্বারা পৌরনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তুর ব্যাপকতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
পৌরনীতি কেবল তাত্ত্বিক ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকের সামগ্রিক জীবনপ্রণালির সাথে এটি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সংবিধান, আইন, সরকার ব্যবস্থা ইত্যাদি সকল উপাদানই নাগরিক জীবনের অংশ। পৌরনীতিতে নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত সকল বিষয় এবং তাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। অর্থাৎ, নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণ ও বিকাশের সাথে যা কিছু সরাসরি জড়িত, সেগুলোর সবই পৌরনীতির বিষয়বস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। ফলে যথার্থভাবেই বলা হয়েছে যে, যা কিছু নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে, তা নিয়েই পৌরনীতি আলোচনা করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি একজন সচেতন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য পৌরনীতি পাঠের অপরিসীম প্রয়োজন রয়েছে।
পৌরনীতি অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তার সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতা: পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পায়।
২. সুনাগরিকতার গুণাবলি অর্জন: সুনাগরিক হওয়ার তিনটি প্রধান গুণ—বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক-বিচার সম্পর্কে জ্ঞান দান করে পৌরনীতি।
৩. রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান: রাষ্ট্রের উৎপত্তি, সংবিধান, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ (আইন, শাসন, বিচার) এবং তাদের কার্যক্রম বোঝার জন্য পৌরনীতি পাঠ জরুরি।
৪. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশ: সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ ঘটে পৌরনীতি চর্চার মাধ্যমে।
৫. আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন: বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বৈশ্বিক সমস্যা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন (যেমন- জাতিসংঘ) সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে এ পাঠ সাহায্য করে।অতএব, একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে প্রতিটি নাগরিকের পৌরনীতি পাঠ অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও