‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন অতি জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্য, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ত্যাগের মাধ্যমেই জনগণকে আকৃষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য ও ব্যক্তিত্ব জনগণকে উজ্জীবিত করেছে। ফলে জনগণ অন্ধভাবে তাকে ভালোবেসে ও বিশ্বাস করে-১৯৭০ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে এবং ১৯৭১ সালে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছে।

  1. ক)

    নেতৃত্ব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন ধরনের নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে গুণাবলী রয়েছে, তাছাড়াও নেতৃত্বের জন্য আর কী কী গুণাবলী রয়েছে- তোমার বইয়ের আলোকে উত্তর লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তি বা দলের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিচালিত করার প্রক্রিয়া বা গুণাবলিকে নেতৃত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে পরস্পরের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন রেখে নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যবস্থাকে বোঝায়। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর 'দ্য স্পিরিট অব লজ' গ্রন্থে এ ধারণার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' (Charismatic Leadership)-এর অধিকারী ছিলেন।

    যে নেতৃত্বের মূলে থাকে নেতার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা, প্রজ্ঞা এবং সম্মোহনী ক্ষমতা, যার ফলে জনগণ কোনো যুক্তি-তর্ক ছাড়াই নেতার প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রকাশ করে এবং তাঁর আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়, তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তব্য, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট করেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব জনগণকে গভীরভাবে উজ্জীবিত করেছে। জনগণ তাঁকে ভালোবেসে ও বিশ্বাস করে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং ১৯৭১ সালে তাঁর এক ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নেতার প্রতি জনগণের এই নিঃশর্ত আস্থা ও উদ্দীপনা সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ত্যাগের মতো গুণাবলীর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্যবইয়ের আলোকে একজন সফল নেতার মধ্যে আরও বেশ কিছু অপরিহার্য গুণাবলী থাকা প্রয়োজন, যা নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা: নেতৃত্ব প্রদানের জন্য শারীরিক সামর্থ্য এবং প্রবল মানসিক দৃঢ়তা থাকা আবশ্যক।
    ২. বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা: জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা থাকতে হয়।
    ৩. সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা: নেতার চারিত্রিক সততা ও বিশ্বস্ততা অনুসারীদের আস্থা অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
    ৪. নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা: নেতার অবশ্যই সব ধরনের পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সবার প্রতি সমান ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
    ৫. ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতা: সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য বজায় রাখা নেতৃত্বের অন্যতম বড় গুণ।
    ৬. যোগাযোগ দক্ষতা: সাধারণ মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা এবং তাদের সাথে ফলপ্রসূ যোগাযোগ স্থাপন করার দক্ষতা থাকতে হবে।
    ৭. দায়িত্বশীলতা ও উদ্যোগ: নতুন কাজের সূচনা করা এবং যেকোনো কাজের সফলতার দায়ভার বা ঝুঁকি গ্রহণের সাহস থাকা প্রয়োজন।

    সুতরাং, উল্লিখিত গুণাবলীর সমন্বয়েই একটি আদর্শ ও গতিশীল নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, যা দেশ ও সমাজকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন