ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আউচ্চাভিলাষী জমিদার প্রবাল রায়ের অত্যাচার ও কঠোর কর আদায় নীতির কারণে সাধারণ প্রজাগণ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দেয়, কৃষক কৃষিকাজ ফেলে পালিয়ে যায়। বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে চাচাত ভাই শ্যামল রায় নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমিদারির দায়িত্ব নেন। তিনি জমিদারের প্রতি প্রজাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক জনকল্যাণকর কাজ করেন। তিনি সাধারণ প্রজার বকেয়া কর মাফ করে দেন। আবার ঋণ প্রদান করেন। তবে অধিক হারে ঋণ প্রদান ও বেহিসেবি দান-খয়রাতের ফলে রাজকোষে প্রচণ্ড অর্থ ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে জমিদারির দুরবস্থার জন্য তাকে দায়ী করা হয়।

  1. ক)

    মালিক কাফুর কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত জমিদার শ্যামল রায়ের সাথে কোন ভারতীয় সুলতানি শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের মতো উক্ত সুলতানকেও তার বংশের পতনের জন্য দায়ী করা যায় কি? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির প্রধান সেনাপতি এবং দাক্ষিণাত্য অভিযানের প্রধান নায়ক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চলটি অত্যন্ত উর্বর ও শস্যশ্যামল ছিল। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁর বিশাল সামরিক বাহিনীর ব্যয় নির্বাহ এবং সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এই উর্বর অঞ্চলে কর বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে সময় সেখানে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তাঁর এই কর বৃদ্ধি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিদার শ্যামল রায়ের সাথে দিল্লির তুঘলক বংশের সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর চাচাত ভাই ফিরোজ শাহ তুঘলক অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাম্রাজ্যের আমীর-ওমরাহদের অনুরোধে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েই পূর্ববর্তী শাসকের কঠোর নীতির অবসান ঘটান, প্রজাদের বকেয়া ঋণ ও কর মওকুফ করেন এবং প্রচুর জনকল্যাণমূলক সংস্কার ও মুক্তহস্তে দান-খয়রাত করেন। উদ্দীপকে শ্যামল রায়ও চাচাত ভাইয়ের মৃত্যুর পর ইচ্ছার বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, জনকল্যাণে বকেয়া কর মওকুফ ও বিপুল অর্থ দান-ঋণ প্রদান করেন; যা সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের কার্যক্রমের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শ্যামল রায়ের মতো সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলককেও তাঁর সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক দুর্বলতা এবং পরিণামে বংশের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা যায়।

    ফিরোজ শাহ তুঘলক একজন জনকল্যাণকামী ও ধার্মিক শাসক হলেও তাঁর নীতিগুলো তুঘলক সাম্রাজ্যের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছিল। তিনি সৈন্যদের জন্য বংশানুক্রমিক জায়গীর প্রথা চালু করেন এবং কঠোর সামরিক নিয়ম শিথিল করেন। এর ফলে সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ক্রীতদাস পোষণ এবং অঢেল অর্থ দান-খয়রাতের ফলে রাজকোষের বিপুল ক্ষতি হয়। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সাম্রাজ্যের ভিত্তি এতটাই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে যে তৈমুরের আক্রমণের মুখে তুঘলক বংশ সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে। তাই তাঁর অতিরিক্ত তোষণনীতি ও সামরিক শিথিলতা তুঘলক বংশের পতনের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল বলে ইতিহাসবিদগণ মনে করেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন