ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তী সময়ে ফুয়াদ পাশার সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা, সুলতানের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় । অবশেষে সুলতান কৌশলে তাকে হত্যা করেন ।
- ক)(1)
আব্বাসিদের শেষ খলিফার নাম কী?
- খ)(2)
আব্বাসি কারা? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে কোন আব্বাসি খলিফার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
আব্বাসিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে উক্ত সেনাপতির অবদান মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসি বংশের শেষ খলিফার নাম আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ (Al-Musta'sim Billah)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-এর বংশধরগণ ইতিহাসে 'আব্বাসি' নামে পরিচিত।
উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। হযরত আলীর বংশধরদের সাথে মৈত্রীর ভাব দেখিয়ে এবং উমাইয়াদের বিরোধিতার সুযোগ নিয়ে এই বংশ দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত বছর (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) বাগদাদকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্ব শাসন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানিকে কৌশলে হত্যার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানি। তাঁর অসামান্য রণকৌশল ও নেতৃত্বের কারণেই উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত হয় এবং আব্বাসিরা ক্ষমতায় আসে। কিন্তু খলিফা আল-মনসুর ক্ষমতায় আসার পর আবু মুসলিমের অসাধারণ প্রভাব, সামরিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা খিলাফতের জন্য বিপজ্জনক মনে করেন। তাই তিনি কৌশলে খোরাসানিকে রাজদরবারে ডেকে নিয়ে ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করান। উদ্দীপকে যেমন সুলতান আব্দুল হামিদ নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সুরক্ষায় জনপ্রিয় সেনাপতি ফুয়াদ পাশাকে হত্যা করেন, খলিফা আল-মনসুরও একইভাবে সেনাপতি আবু মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে প্রধান সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানির অবদান ছিল অপরিসীম ও অপরিহার্য।
আবু মুসলিম ছিলেন একজন অসাধারণ দূরদর্শী কূটনীতিক ও অনন্য রণকুশলী সেনাপতি। আব্বাসি আন্দোলনের প্রধান প্রচারক হিসেবে তিনি তৎকালীন পারস্য ও খোরাসানে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে তোলেন। উমাইয়া শাসনের দুর্বলতা ও আরব-অনারবদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে তিনি কালবিলম্ব না করে ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের পক্ষে কালো পতাকা উত্তোলন করেন।
তাঁর নেতৃত্বেই আব্বাসি বাহিনী মার্ভ, নিশাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে এবং জাবের চূড়ান্ত যুদ্ধে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। মূলত আবু মুসলিমের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ সিংহাসনে বসেন। অতএব, আবু মুসলিমের অবদান ছাড়া আব্বাসি রাজবংশের ক্ষমতায় আরোহণ একপ্রকার অসম্ভব ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও