ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম সাহেব ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি একজন জনদরদী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সমাজের জন্য হিতকর অনেক কার্যাদি তিনি নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেন, কিন্তু যখনই ছেলেবেলার বন্ধু করিমের সাথে তার পুনরায় যোগসূত্র স্থাপিত হয় তখনই তিনি আমূল পাল্টে যেতে থাকেন। অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করাই তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য তাকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।
- ক)(1)
কারা বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমকে সামরিক সহযোগিতা করেছিল?
- খ)(2)
দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাহীন করাই ছিল দ্বৈতশাসনের মূল উদ্দেশ্য'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে কোম্পানি আমলের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'অর্থলিপ্সাই ছিল উক্ত শাসকের পতনের মূল কারণ'- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বক্সারের যুদ্ধে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম মীর কাশিমকে সামরিক সহযোগিতা করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা ভোগ করা এবং দেশীয় নবাবকে ক্ষমতাহীন পুতুলে পরিণত করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায় ও সামরিক কর্তৃত্বের মতো মূল ক্ষমতা নিজের হাতে রাখে এবং নবাবের ওপর কেবল বিচার ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের দায়িত্ব অর্পণ করে। ফলে নবাব আর্থিক সামর্থ্য ও সামরিক শক্তি হারিয়ে কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের সাথে কোম্পানি আমলের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সাদৃশ্য রয়েছে।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসনিক, বিচারিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রে নানা কল্যাণকর সংস্কার সাধন করেন। তিনি দ্বৈতশাসন বাতিল করেন এবং কলকাতায় সদর দেওয়ানি ও সদর নিজামত আদালত প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরবর্তী সময়ে নিজের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কোম্পানিকে আর্থিকভাবে লাভবান করার অভিপ্রায়ে তিনি অযোধ্যার বেগমদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে অর্থ আদায়, বেনারসের রাজা চৈত সিংহের ওপর অন্যায় কর আরোপ ও নন্দকুমারের বিচারকে প্রভাবিত করে ফাঁসি কার্যকর করার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। উদ্দীপকের রহিম সাহেবও কর্মজীবনের শুরুতে জনদরদী ও নিষ্ঠাবান হলেও পরবর্তীতে বন্ধু করিমের প্ররোচনায় অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়ে পড়েন এবং অবশেষে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হন, যা ওয়ারেন হেস্টিংসের ইংল্যান্ডে ইমপিচমেন্ট বা মহাভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাসের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অর্থলিপ্সাই ছিল উক্ত শাসকের পতনের মূল কারণ'- উক্তিটি যথার্থ।
ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁর শাসনামলের শেষার্ধে কোম্পানির আর্থিক সংকট মোচন এবং ব্যক্তিগত লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য চরম নীতিহীনতার আশ্রয় নেন। তিনি ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদকে সন্তুষ্ট রাখতে অন্যায্য পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে মেতে ওঠেন।
এর অংশ হিসেবে তিনি অযোধ্যার নবাব আসাফউদ্দৌলার সহায়তায় অযোধ্যার রাজমাতা ও পিতামহীর (বেগমদের) রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করে অর্থ ও ধনরত্ন বাজেয়াপ্ত করেন। একইভাবে বেনারসের রাজা চৈত সিংহের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে রাজ্যচ্যুত ও লাঞ্ছিত করেন। এছাড়াও তাঁর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার মহারাজ নন্দকুমারকে বিচারিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া হয়। এসব অর্থলিপ্সা এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের কারণে হেস্টিংস ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এডমন্ড বার্ক কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাত বছরব্যাপী ইমপিচমেন্ট মামলা পরিচালিত হয়। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন, তবুও তাঁর সম্মানহানি, রাজনৈতিক জীবনের অবসান এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য তাঁর অতিরিক্ত অর্থলিপ্সা এবং নীতিহীন আচরণই প্রধান কারণ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও