‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

অনুচ্ছেদ-১: আরব সাগর তীরবর্তী 'ধাহানু' অঞ্চলে নানাধর্মের লোকের বসবাস। ঔপনিবেশিক শাসনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ধাহানু অঞ্চলের শাসিতদের মধ্যে যাতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সৃষ্টি না হয় সেজন্য ঔপনিবেশিক শাসক উক্ত অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক দাবি- দাওয়া পূরণের উদ্যোগ নেয়। শাসিত অঞ্চলের জনগণকে নিয়ে। আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেয়া হয় একজন উচ্চপদস্থ বিদেশি কর্মকর্তাকে। এ কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় উনিশ শতকের শেষে 'ধাহানু সভা' নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন জন্মলাভ করে। 'ধাহানু সভা' ছিল ঐ অঞ্চলের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।অনুচ্ছেদ-২: কিছুদিন পর 'ধাহানু সভা' সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় মতাবলম্বীদের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করতে শুরু করলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে 'মুক্তি মঞ্চ' নামে আর একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলে। এতে সমগ্র ধাহানু অঞ্চলেররাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

  1. ক)

    আলীগড় আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ভারতীয় মুসলমানদের পুনর্জাগরণে সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন আলোকবর্তিকা- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'ধাহানু সভা'-এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বিবৃত 'মুক্তি মঞ্চের' মত তোমার পাঠ্যবইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন সৃষ্টির প্রভাব ছিল। সুদূরপ্রসারী- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আলীগড় আন্দোলনের নেতা ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন উনিশ শতকের শেষভাগে বাংলার মুসলিম জাগরণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া মুসলিম সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ছিল। এ ছাড়া তিনি তাঁর লেখনী (যেমন 'দ্য স্পিরিট অব ইসলাম') ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের মাধ্যমে মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও নবচেতনা জাগ্রত করেছিলেন। তাই তাঁকে ভারতীয় মুসলমানদের পুনর্জাগরণের আলোকবর্তিকা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'ধাহানু সভা'-এর সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত 'নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস' (Indian National Congress)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসকরা ভারতীয়দের রাজনৈতিক অসন্তোষকে একটি সাংবিধানিক ধারায় পরিচালনা করার প্রয়োজন অনুভব করেন। এ লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume)-এর উদ্যোগে এবং তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের সমর্থনে ১৮৮৫ সালে 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের নিকট সাংবিধানিক উপায়ে পেশ করা।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসক ধাহানু অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক অসন্তোষ ঠেকাতে একজন উচ্চপদস্থ বিদেশি কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় উনিশ শতকের শেষে 'ধাহানু সভা' নামে প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। এ পটভূমি ও ব্রিটিশ আমলা হিউমের উদ্যোগে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ঘটনা সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'মুক্তি মঞ্চ'-এর সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং উপমহাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    কংগ্রেস সর্বভারতীয় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সময়ের সাথে সাথে এটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রভাবে পরিচালিত হতে থাকে। বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী তীব্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুসলমানরা বুঝতে পারেন যে কংগ্রেসে তাদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত নয়। ফলে নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল-মুলক প্রমুখের নেতৃত্বে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' গঠিত হয়।

    মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার ফলে উপমহাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন সূচিত হয়:
    ১. পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান: মুসলমানরা নিজস্ব স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পায়, যার ফলে ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা স্বীকৃতি পায়।
    ২. দ্বিজাতিতত্ত্বের বিকাশ: এই স্বাতন্ত্র্যবোধই পরবর্তীকালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বিজাতিতত্ত্ব'-এ রূপ নেয়, যেখানে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়।
    ৩. ভারত বিভাজন ও পাকিস্তান সৃষ্টি: মুসলিম লীগের নেতৃত্বেই ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    অতএব, উদ্দীপকের 'মুক্তি মঞ্চ' যেমন ধাহানু অঞ্চলের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্র ও ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন