ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
পাআপুর ড়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদটি দক্ষিণ অঞ্চলের অধিকারে ছিল এর ফলে ফলে উন্নয়নমূলক কাজ উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বেশি হয়েছে স্কুল, ডাকঘর, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, বাজার দক্ষিণভাগেই স্ব্যাপিত হয় এলাকার লোকজনকে যে কোনো প্রয়োজনে দক্ষিণান্যালের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রভাবশালী ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি ও স্বেচ্ছাচারিতায় উত্তরাঞ্চলের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারল চেয়ারম্যান পদ উত্তরাখালের দখলে না আসা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের অত্যাচার হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উত্তরের সকলে জোটবদ্ধ হয়ে উত্তরের প্রার্থীকে ভোট দিল। ফলে উত্তরের প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলো। কিন্তু নানা কৌশলে দক্ষিণের লোকজন নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে তার পদে বসতে বাধা দিল।
- ক)(1)
সিপাহি বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের ইতিহাসে উস্ত ঐতিহাসিক নির্বাচনের গুরুত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিপাহি বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় নীতি, রাওলাট আইন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অহিংস উপায়ে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার যে আন্দোলন শুরু হয়, তাকে অসহযোগ আন্দোলন বলা হয়। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি পদবি, স্কুল-কলেজ, আদালত, আইনসভা এবং বিদেশি পণ্য বর্জন করে নিজেদের স্বনির্ভর করা ও ব্রিটিশদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চরম বৈষম্য ও শোষণ চালিয়ে আসছিল। সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো মূলত পশ্চিম পাকিস্তানে, আর পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ সেখানে পাচার করা হতো। এই বৈষম্য ও শোষণের প্রতিবাদে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি একাট্টা হয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় এবং জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে।
উদ্দীপকের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বৈষম্যের শিকার হয়ে উত্তরের মানুষ নিজেদের মুক্তির জন্য জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু দক্ষিণের পরাজিত কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে পদে বসতে বাধা প্রদান করে। এটি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র কর্তৃক বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মহান স্বাধীনতা অর্জনে একটি চূড়ান্ত মাইলফলক।
প্রথমত, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফার পক্ষে এক অবিসংবাদিত রায় প্রদান করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (মহিলা আসনসহ) আসন লাভ করে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগই ছিলেন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র বৈধ মুখপাত্র।
দ্বিতীয়ত, এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও সংহতিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এটি ছিল একটি সফল গণতান্ত্রিক রায়।
তৃতীয়ত, নির্বাচনে জয়লাভের পরও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অতএব, ১৯৭০ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন ছিল না; বরং তা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও