‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

"তুমি স্মরণীয় রক্তান্ত ৮ই ফাল্গুন
স্বৈরাচারের শিরায় শিরায় লেগেছিল যেদিন আগুন
তুমি সেই ৮ই ফাল্গুন।
শহীদ হলো যাঁরা নেই এই ক্ষণে
রয়েছে তাঁদের প্রসুন
৮ই ফাল্গুন তুমি সুপ্রভ, তুমি সুদৃঢ়
সুললিত ঐক্যের নবারুণ।"

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন কে?

    (1)
  2. খ)

    সাইমন কমিশন কেন ব্যর্থ হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে মুখ্য ভূমিকা' রেখেছিল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯২৭ সালে গঠিত 'সাইমন কমিশন' ব্যর্থ হয়েছিল মূলত এতে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকার কারণে।

    ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিশন গঠন করে। কিন্তু এই কমিশনে একজনও ভারতীয় সদস্য রাখা হয়নি, যার ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগসহ ভারতের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ ক্ষুব্ধ হয় এবং একে ভারতীয়দের আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে দেখে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ভারতীয় জনগণ 'সাইমন ফিরে যাও' (Simon Go Back) স্লোগানে কমিশনটি সর্বাত্মকভাবে বর্জন ও প্রতিরোধ করায় তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'কে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    উদ্দীপকের কবিতায় 'রক্তাক্ত ৮ই ফাল্গুন', 'স্বৈরাচারের শিরায় শিরায় লেগেছিল যেদিন আগুন' এবং শহিদদের আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ই ফাল্গুন। এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাংলা ভাষার মর্যাদার দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে এবং পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন।

    অতএব, উদ্দীপকের ৮ই ফাল্গুনের রক্তাক্ত স্মৃতি ও শহিদদের অবদান সরাসরি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন)-এর মহান ভাষা আন্দোলনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে মূল ভিত্তি ও মুখ্য ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছিল—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালায়। এর প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ১৯৫২ সালের ৮ই ফাল্গুন (২১ ফেব্রুয়ারি) বুকের রক্ত ঢেলে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

    এই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোতে তাদের ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ই স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত এবং তারা একটি পৃথক জাতিসত্তা। ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আত্মপ্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। এর ফলেই পরবর্তীকালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪), শিক্ষা আন্দোলন (১৯৬২), ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি (১৯৬৬), গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই ছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল সূতিকাগার, যা ধাপে ধাপে বাঙালিকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন