‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

১৭ 'ক' অঞ্চলের রাজা ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির। সেখানে বুর্জোয়া ও পুঁজিপতিরা নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করেনি। ফলে তারা এক বিদ্রোহী নেতার সাহায্য কামনা করে। তারা সফল হয়। রাজাও সমর্থন করেন। ফলে ঐ নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে অন্যায় ও নির্যাতনের জন্য তার পতন দ্রুত হয়।

  1. ক)

    'Mein Kampf' কার লেখা?

    (1)
  2. খ)

    অক্ষশক্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নেতার ন্যায় তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার মিল রয়েছে? পরিচয় দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত নেতার পতনের জন্য কোন কারণগুলো দায়ী ছিল বলে তুমি মনে কর?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Mein Kampf' (আমার সংগ্রাম) গ্রন্থটি এডলফ হিটলারের লেখা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অক্ষশক্তি চুক্তি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে আগ্রাসী ও কর্তৃত্ববাদী তিনটি দেশ—জার্মানি, ইতালি এবং জাপানের মধ্যে পারস্পরিক সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য স্বাক্ষরিত মৈত্রী চুক্তি। ১৯৩৬ সালে গঠিত রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষের ওপর ভিত্তি করে ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (Tripartite Pact) স্বাক্ষরিত হয়, যা তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তি জোট হিসেবে সুসংহত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নেতার সাথে পাঠ্যবইয়ের ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা বেনিতো মুসোলিনির (কিংবা জার্মানির এডলফ হিটলারের) মিল রয়েছে। তবে ইতালির বাস্তবতার সাথে এর সাদৃশ্য সর্বাধিক স্পষ্ট।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালিতে রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির শাসক। সে সময় ইতালিতে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের উত্থান ঘটে, যা সেখানকার বুর্জোয়া ও পুঁজিপতি শ্রেণি সমর্থন করতে পারেনি। তারা সমাজতন্ত্রের ভয় থেকে নিজেদের স্বার্থ ও সম্পত্তি রক্ষায় বেনিতো মুসোলিনি ও তার গঠিত ফ্যাসিস্ট ব্ল্যাকশার্ট বাহিনীর সাহায্য কামনা করে। মুসোলিনির বলপ্রয়োগ ও রোম অভিযানের মুখে দুর্বল রাজা তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে বাধ্য হন। এভাবে মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালিতে ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সাথে উদ্দীপকের নেতার উত্থানের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা বেনিতো মুসোলিনির (এবং সার্বিকভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকদের) পতনের জন্য মূলত নিচের কারণগুলো দায়ী ছিল বলে আমি মনে করি:

    ১. চরম একনায়কতন্ত্র ও দমন-পীড়ন: মুসোলিনি গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করে বিরোধী মত কঠোরভাবে দমন করেন, বাকস্বাধীনতা হরণ করেন এবং বিরোধীদের হত্যা ও নির্যাতন করেন। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে।
    ২. বেপরোয়া পররাষ্ট্রনীতি ও আগ্রাসন: কোনো কার্যকর সামরিক সামর্থ্য অর্জন না করেই তিনি আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া), আলবেনিয়া আক্রমণ করেন, যা ইতালিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
    ৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিপর্যয়কর অংশগ্রহণ: নিজের দুর্বল সামরিক শক্তিকে উপেক্ষা করে তিনি হিটলারের সাথে মৈত্রী গড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধক্ষেত্রে ইতালীয় বাহিনী অব্যাহত পরাজয়ের শিকার হয়।
    ৪. অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিদ্রোহ: যুদ্ধের কারণে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যাভাব ও চরম মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। ফলে জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
    ৫. মিত্রবাহিনীর আক্রমণ: ১৯৪৩ সালে মিত্রশক্তি সিসিলি আক্রমণ করলে ফ্যাসিস্ট গ্র্যান্ড কাউন্সিল মুসোলিনির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে এবং রাজা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। পরবর্তীতে তিনি পলায়নকালে সাধারণ জনগণের হাতে ধরা পড়ে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

    সুতরাং, অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন, ভুল সামরিক নীতি এবং অন্যায্য যুদ্ধের কারণেই এই ফ্যাসিস্ট নেতার দ্রুত ও শোচনীয় পতন ঘটেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন