ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া। এবং ভিয়েনা থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দুর্নীতির দায়ে তার লামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তিনি নিজ পুত্রকে ফাঁসি দেন। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

    (1)
  2. খ)

    ভন্ড নবি কারা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাম্রাজ্য বিস্তারের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার প্রতিফলন লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত খলিফার ন্যায়বিচার উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর আরবের যেসব ব্যক্তি নবুয়ত বা নবি হওয়ার মিথ্যা দাবি করেছিল, ইতিহাসে তারা ‘ভণ্ড নবি’ নামে পরিচিত। এদের মধ্যে মুসায়লামা, আসওয়াদ আনসি, তুলায়হা ও সাজাহ উল্লেখযোগ্য। ইসলামের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করায় প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) কঠোর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদের মিথ্যা নবুয়তের দাবি ও বিদ্রোহ চিরতরে দমন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাম্রাজ্য বিস্তারের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর প্রতিফলন লক্ষণীয়।

    হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ইসলামের ভৌগোলিক সীমানা অভূতপূর্বভাবে প্রসারিত হয়। তিনি পারস্য ও রোমান (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও মিসর জয় করেন। এর ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য একদিকে মধ্য এশিয়া এবং অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

    উদ্দীপকে সুলতান সুলাইমানের সুবিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার (কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এবং ভিয়েনা থেকে আরব সাগর) খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর সেই বিশ্ববিজয়ী সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই উদ্দীপকের সাম্রাজ্য বিস্তারে হজরত উমর (রা.)-এর প্রতিফলন সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান মহামতি সুলাইমানের কঠোর ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচারের আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মূর্ত প্রতীক। আইনের দৃষ্টিতে ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় সকলের মর্যাদা ছিল সমান। মদ্যপানের অপরাধে তিনি নিজের পুত্র আবু শামাহকে চাবুক মারার নির্দেশ দেন এবং সেই দণ্ড কার্যকর করার ফলে পুত্রের মৃত্যু ঘটলেও তিনি কোনো অনুকম্পা দেখাননি। এমনকি প্রাদেশিক গভর্নর বা সেনাপতিদের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রজাদের অভিযোগও তিনি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বিচার করতেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মহামতি সুলাইমান দুর্নীতির দায়ে জামাতাকে শাস্তি প্রদান এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে নিজ পুত্রকে ফাঁসি দেন। খলিফা হজরত উমর (রা.) ঠিক একইভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ককে ন্যায়বিচারের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি। উভয়ের শাসনব্যবস্থাতেই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া এবং আইনের চোখে সবাইকে সমান দেখার প্রতিফলন ঘটেছে। সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে হজরত উমর (রা.)-এর নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার ও কঠোরতার আদর্শই উদ্দীপকের শাসকের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন