ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুলতান সুলেমান সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্য শাসনে পুরাতন ধ্যানধারণার সংস্কার করেন। তিনি প্রশাসন, বিচার ও সৈন্যবাহিনীর জন্য আলাদা বিভাগ ও পদ সৃষ্টি করেন। তিনি প্রত্যেকের পদমর্যাদা অনুযায়ী ক্ষমতা ও অবস্থান নির্ধারণ করে দেন। এতে উচ্চ রাজকর্মকর্তাদের মাঝে মর্যাদার বিরোধ নিরসন হয়। ফলে সাম্রাজ্য শাসনে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। তবে তার এ ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত ছিল না।

  1. ক)

    সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'দ্বীন-ই-ইলাহি'র প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সামরিক ব্যবস্থাটি মুঘল সম্রাট আকবরের প্রতিষ্ঠিত কোন পদক্ষেপকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অনেক উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও উদ্দীপকে উল্লেখিত সামরিক ব্যবস্থার মতো সম্রাট আকবরের উক্ত পদক্ষেপও সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না।' বক্তব্যটি সমর্থন করো কি

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের প্রকৃত নাম আরজুমান্দ বানু বেগম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু গ্রহণ করে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' প্রবর্তন করেন। এর মূল রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষের বহুধা বিভক্ত ও পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা, ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করা। সম্রাট নিজেকে একটি অভিন্ন আদর্শিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে রাজনৈতিকভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সামরিক ব্যবস্থাটি মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত 'মনসবদারি প্রথা'কে নির্দেশ করে।

    মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করার জন্য আকবর ১৫৭৭ সালে মনসবদারি ব্যবস্থা চালু করেন। 'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা স্থান। এ প্রথায় সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে বা মনসবে বিভক্ত করা হতো এবং সেই অনুযায়ী তাদের অশ্বারোহী সৈন্য সংরক্ষণ ও বেতন-ভাতা নির্ধারিত হতো।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান সুলেমান প্রশাসন ও সৈন্যবাহিনীর জন্য আলাদা বিভাগ ও পদ সৃষ্টি করেন এবং প্রত্যেকের পদমর্যাদা অনুযায়ী ক্ষমতা নির্ধারণ করে বিরোধ নিরসন করেন। আকবরের মনসবদারি প্রথাতেও ঠিক একইভাবে পদমর্যাদা সুনির্দিষ্ট করার মাধ্যমে পদাধিকারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মর্যাদা ও দায়িত্বের বিরোধ দূর করা হয়েছিল এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনা হয়েছিল। অতএব, উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি সম্রাট আকবরের মনসবদারি প্রথাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি বক্তব্যটির সাথে সম্পূর্ণ একমত। বহু সুফল থাকা সত্ত্বেও সম্রাট আকবরের মনসবদারি ব্যবস্থাটি ত্রুটি বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না।

    আকবরের মনসবদারি প্রথা মুঘল সাম্রাজ্যের বিশাল প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। এতে বংশানুক্রমিকতার বদলে মেধার মূল্যায়ন হতো এবং সাম্রাজ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ব্যবস্থাটিতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান ছিল:

    ১. সৈন্যদের আনুগত্যের অভাব: মনসবদারদের অধীনে থাকা সৈন্যরা সরাসরি সম্রাটের প্রতি অনুগত না হয়ে তাদের নিজস্ব মনসবদারের প্রতি বেশি বিশ্বস্ত থাকত। এর ফলে মনসবদার বিদ্রোহ করলে সৈন্যরাও সম্রাটের বিরুদ্ধে চলে যেত।
    ২. অনিয়ম ও দুর্নীতি: অনেক মনসবদার নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম সৈন্য ও অশ্ব রাখতেন কিন্তু সরকারের কাছ থেকে পুরো ভাতা গ্রহণ করতেন। আকবর দাগ ও চেহারা প্রথা চালু করলেও এই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
    ৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বিলাসিতা: উচ্চপদস্থ মনসবদাররা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেতেন, যা তাদেরকে অলস ও বিলাসী করে তুলেছিল। পক্ষান্তরে সাম্রাজ্যের রাজস্বের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
    ৪. জাতীয় সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতি: সামগ্রিকভাবে একটি একক ও সমজাতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠিত হয়নি, বরং তা ছিল বিভিন্ন মনসবদারের অধীনস্থ মিশ্র বাহিনীর সমষ্টি।

    সুতরাং, উদ্দীপকে সুলতান সুলেমানের সংস্কারের মতো আকবরের মনসবদারি ব্যবস্থাও একদিকে যেমন সাম্রাজ্যের শৃঙ্খলা এনেছিল, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে সমালোচিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন