ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মোজাম্বিক আফ্রিকার সর্বদক্ষিণের একটি দেশ। দেশটির পৃথিবীখ্যাত সমুদ্র সৈকত, আকর্ষণীয় প্রবাল দ্বীপ ও সুদৃশ্য ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। ঔপনিবেশিক শক্তি কর্তৃক গৃহীত শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক নীতির ফলে জনমনে এক সময় ধূমায়িত অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যার ফলে দেশটিতে দীর্ঘকালব্যাপী গেরিলা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। মোজাম্বিকের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন FERLIMO তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সপক্ষে সারাবিশ্বের কাছে সহযোগিতা কামনা করে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমমনা দেশগুলো এগিয়ে আসলেও একটি বৃহৎ শক্তি এর বিরোধিতা করে। মিত্র দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মোজাম্বিক ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করে।
- ক)(1)
‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' কেন প্রদান করা হয়?
- খ)(2)
'মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অসামান্য'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মোজাম্বিকের মতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।'- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' প্রদান করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের প্রেরণার প্রধান উৎস। অবরুদ্ধ বাংলার জনগণের মনোবল ধরে রাখতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপিত করতে এ কেন্দ্র থেকে দেশাত্মবোধক গান, খবর ও নাটক সম্প্রচার করা হতো। বিশেষ করে এম আর আখতার মুকুলের রচিত ও উপস্থাপিত ব্যঙ্গাত্মক 'চরমপত্র' এবং বিভিন্ন দেশপ্রেমমূলক গান মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ময়দানে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মোজাম্বিকের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটির মতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নিক্সন প্রশাসন সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন জোগায়। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন উপেক্ষা করে আমেরিকা পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার জন্য তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তোলে, যা মূলত পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজয় থেকে রক্ষার অপকৌশল ছিল (যদিও সোভিয়েত ভেটোর কারণে তা ব্যর্থ হয়)। এমনকি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ভাঙতে ও ভারতকে চাপে ফেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে তাদের পরমাণুবাহী রণতরী ‘সপ্তম নৌবহর’ প্রেরণ করেছিল। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।'- উক্তিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কার্যকর ও ইতিবাচক। ভারত প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা দিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন, আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে ভারত মুক্তিপাগল বাঙালিদের প্রতিরোধ শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হয়, যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানে।
অন্যদিকে, পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ময়দানে বাংলাদেশের পাশে দৃঢ় অবস্থান নেয়। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবার 'ভেটো' ক্ষমতা প্রয়োগ করে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ থামানোর চক্রান্ত রুখে দেয়। পাশাপাশি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের অন্যান্য দেশও এ আন্দোলনে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়।
সুতরাং, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগের পাশাপাশি বন্ধুভাবাপন্ন মিত্র দেশগুলোর এই বহুমুখী সামরিক, মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তাই নয় মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও