ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

পবিত্র হজ পালনের জন্য জনাব হারুন সাহেব সৌদি আরব গমন করেন। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে সেদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুশাসন ও আচার-আচরণ তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দীর্ঘদিন সেদেশে অবস্থান করে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। স্বদেশে ফিরে এসে দেখেন, মানুষ নানাবিধ ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে লিপ্ত। এক শ্রেণির মানুষ মাজারে গিয়ে মানত করছে, সেজদা করছে, পিরের মুরিদ হয়ে পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত আছে। এহেন অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড তাকে মর্মাহত করে। তিনি ঐ সব বিপথগামী মুসলমানদের ইসলামের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য আত্মনিয়োগ করেন। এর ফলে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

  1. ক)

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সাথে কোন ধর্মসংস্কার আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ধর্মসংস্কার আন্দোলনের মতো উত্ত আন্দোলনও তৎকালীন সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল।'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈত শাসন বলতে একটি অঞ্চলে একই সাথে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের শাসন পরিচালনাকে বোঝায়। ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলায় এই ব্যবস্থা চালু করেন। এর অধীনে নবাবের হাতে থাকে সামরিক ও প্রশাসনিক বা দায়িত্বপূর্ণ কাজ (নিজামত), কিন্তু কোনো রাজস্ব ক্ষমতা ছিল না। অন্যদিকে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লাভ করে রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানির কর্তৃত্ব, কিন্তু তাদের কোনো প্রশাসনিক বা জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব ছিল না। অর্থাৎ দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং ক্ষমতাহীন দায়িত্বের এ শাসনই দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব হারুন সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে ভারতবর্ষে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত 'ফরায়েজী আন্দোলন'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ দীর্ঘকাল মক্কায় অবস্থান করে ইসলাম ধর্মের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান তৎকালীন বাঙালি মুসলমানরা কুসংস্কার, শিরক, বিদআত এবং অনৈসলামিক আচার-অনুষ্ঠানে নিমজ্জিত। তিনি মুসলমানদের ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যসমূহ বা 'ফরজ' পালনের প্রতি আহ্বান জানান, যা ইতিহাসে 'ফরায়েজী আন্দোলন' নামে পরিচিত।

    উদ্দীপকে জনাব হারুন সাহেব সৌদি আরবে হজ পালন ও অবস্থান শেষে নিজ দেশে ফিরে দেখেন মুসলমানরা মাজার পূজা, সেজদা ও পীরপূজাসহ নানা কুসংস্কারে লিপ্ত। তিনি তাদের ইসলামের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন। এই প্রেক্ষাপটটি অবিকল হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কার কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ফরায়েজী আন্দোলনের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মতো হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলনও তৎকালীন অবক্ষয়গ্রস্ত মুসলিম সমাজে একটি সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন তৎকালীন সমাজে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো সাধন করেছিল:

    ১. ধর্মীয় সংস্কার ও কুসংস্কার দূরীকরণ: দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সমাজ ও স্থানীয় রীতিনীতির প্রভাবে সমাজে প্রবেশ করা শিরক, বিদআত, তাজিয়া মিছিল, মাজার পূজা ইত্যাদি অনৈসলামিক প্রথা দূর করে মুসলমানদের কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
    ২. আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রতকরণ: তৎকালীন নীলকর ইংরেজ ও জমিদারদের দ্বারা নিষ্পেষিত মুসলিম কৃষক শ্রেণির মধ্যে এই আন্দোলন এক অভূতপূর্ব ঐক্য ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করে। তারা বুঝতে শেখে যে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মানুষের মর্যাদা সমান।
    ৩. শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: ফরায়েজী আন্দোলনের ফলে মুসলমানরা জমিদারদের অন্যায় কর বা আবওয়াব (যেমন দাঁড়ি রাখার ওপর কর) প্রদান বন্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে হাজী শরীয়তুল্লাহর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এই আন্দোলন সরাসরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রূপ নেয়।

    সুতরাং, ফরায়েজী আন্দোলন কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা বাংলার পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজকে অজ্ঞতা ও পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে এক নবজাগরণের সূচনা করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন