ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখে পালন করা হয়?
- খ)(2)
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছবিটি বাঙালির কোন আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উত্ত আন্দোলনের চেতনার মধ্যে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।'- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় এবং এ সংক্রান্ত আন্দোলনকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে গঠিত সর্বদলীয় ও ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্যমঞ্চকে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' বলা হয়। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন নূরুল হক ভূঁইয়া। পরবর্তীতে ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালে এই সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত হয়ে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছবিটি ১৯৫২ সালের বাঙালির মহান ভাষা আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায় ছাত্র-জনতা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে মিছিল করছে। প্ল্যাকার্ডে বাংলা ভাষার দাবিসংবলিত স্লোগান দৃশ্যমান, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক মিছিলের প্রতিচ্ছবি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে এদেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রাজপথে নেমে আসে এবং মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ঐতিহাসিক মিছিল বের করা হয়। উদ্দীপকের প্রতিচ্ছবিটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সেই প্রতিবাদী চেতনা ও মিছিলকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত আন্দোলনের চেতনার মধ্যে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রকাশ্য ও জোরালো বহিঃপ্রকাশ। ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে বাঙালিরা নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের সংকট উপলব্ধি করতে পেরেছিল ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালিরা বুঝতে পারে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাদের সংস্কৃতি, ভাষা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি সুরক্ষিত নয়।
ভাষা আন্দোলনের সাফল্য ও চেতনা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস জুগিয়েছিল। এই ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালিরা বিজয়ী হয়, গড়ে ওঠে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। এসকল রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।
অতএব বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত বীজ এই আন্দোলনের রক্তঝরা চেতনার মধ্যেই প্রোথিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও