‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল এক সময় অনেকেরঅজানা ছিল। ১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জেমস্ কুক ও তার সহযোগী নাবিকগণ যখন অ্যান্টার্কটিকা সার্কেল অতিক্রম করছিলেন তখন দ্বীপটি তাদের নজরে পড়ে। এই সংবাদ অতি দ্রুতই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যথাক্রমে রুশ, ইংরেজ ও আমেরিকানরা এ অঞ্চলে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ইংরেজরা অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ তেলের বিষয়ে গবেষণা করার জন্য অন্য দেশসমূহের বাধা উপেক্ষা করে মহাদেশটির দক্ষিণ মেরুর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপন করে।

  1. ক)

    দিনেমাররা কোন কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্যবসা শুরু করে?

    (1)
  2. খ)

    'জোরপূর্বক ভারতীয়দের ধর্মান্তরকরণ ছিল পর্তুগিজদের পতনের অন্যতম কারণ'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঔপনিবেশিক শক্তির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উক্ত অঞ্চলে অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির চেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী দেশটি ছিল অনেক বেশি সুসংগঠিত? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দিনেমাররা ১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত 'ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'র মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্যবসা শুরু করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পর্তুগিজরা ভারতবর্ষে শুধু বাণিজ্যের বিস্তারই করেনি, বরং স্থানীয় জনগণের ওপর ধর্মীয় নিপীড়নও চালায়। তারা গোঁড়া খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ছিল এবং বলপ্রয়োগ, প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিমদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতে থাকে। এ ছাড়া তারা মন্দির-মসজিদ অপবিত্রকরণ ও ধ্বংস সাধনে লিপ্ত হতো। পর্তুগিজদের এই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ফলে স্থানীয় জনগণ এবং দিল্লির মুঘল শাসকরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, যা ভারতবর্ষে তাদের প্রতিপত্তি নষ্ট করে এবং তাদের দ্রুত পতনকে ত্বরান্বিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলায় ও ভারতবর্ষে আগমনকারী ঔপনিবেশিক শক্তি 'ইংরেজ' বা 'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'র সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

    ভারতবর্ষের ধনসম্পদ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার ও ফরাসিদের মতো বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি এখানে আসে। কিন্তু ইংরেজরা তাদের সুদূরপ্রসারী কূটনীতি, উন্নত সামরিক সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় বণিক শক্তিকে বিতাড়িত করে এবং স্থানীয় শাসকদের পরাজিত করে ভারতবর্ষে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

    উদ্দীপকে অ্যান্টার্কটিকায় রুশ, আমেরিকানদের পর ইংরেজদের আগমন এবং পরবর্তীতে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজের লোভে অন্যান্য দেশের বাধা অগ্রাহ্য করে ইংরেজদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের বিবরণ রয়েছে। এই ঘটনাটি ভারতবর্ষে ফরাসি ও অন্যান্যদের হটিয়ে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক ক্ষমতা দখলের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত অঞ্চলে এবং ভারতবর্ষে অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির চেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী ইংরেজরা অনেক বেশি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও দূরদর্শী ছিল।

    ঐতিহাসিকভাবে ভারতবর্ষে পর্তুগিজ, ডাচ (ওলন্দাজ) এবং ফরাসিরা ইংরেজদের আগেই বা সমসাময়িক সময়ে বাণিজ্য শুরু করেছিল। কিন্তু ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের তুলনামূলক সুবিধাজনক কৌশল ও সংগঠনের কারণে সবার ওপরে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো ছিল:
    ১. সুসংগঠিত কোম্পানি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা: ব্রিটিশ কোম্পানি ছিল একটি সফল যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠান এবং এতে সরকারের সুনির্দিষ্ট সমর্থন থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ছিল। অপরদিকে ফরাসি কোম্পানি সম্পূর্ণ রাজকীয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভুগত।
    ২. নৌ ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব: ব্রিটিশ নৌবাহিনী ও সামরিক সংগঠন সমকালীন বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত ছিল। ফলে কর্নাটকের যুদ্ধগুলোতে ফরাসিদের তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে পেরেছিল।
    ৩. রাজনৈতিক চাতুর্য ও কূটনীতি: দেশীয় রাজনৈতিক অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতি প্রয়োগে ইংরেজরা ছিল অতুলনীয় দক্ষ।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ইংরেজরা তাদের সুসংগঠিত পরিকল্পনার বলেই অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাধা অতিক্রম করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে। সুতরাং, সামগ্রিক বিচারে ইংরেজদের সাফল্য তাদের উন্নততর সংগঠন, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতারই ফল ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন