ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদ শব্দ তিনটি একই সূত্রে গ্রথিত। সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এবং পরাভূত দেশসমূহের উপর স্ব স্ব আইনকানুন প্রয়োগের মাধ্যমে দাসত্বে আবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে উপনিবেশ সৃষ্টি করে। ঔপনিবেশবাদ কখনো কোনো অঞ্চলেই মজালজনক হয়নি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঔপনিবেশবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণ প্রতিবাদী হয়ে উঠে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ। ঘটে। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা অযাচিত প্রভুদের শাসনকার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও নিজ দেশের বাহিরের পণ্যসামগ্রী বর্জন করতে বন্ধপরিকর হয়।
- ক)(1)
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল?
- খ)(2)
কুসংস্কারমুক্ত সমাজ নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অবিস্মরণীয়- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বিষয়ের ফলেই গণসচেতনতার সৃষ্টি হয় যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তীব্রতা পায়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা (ও আসামের কিছু অংশ) নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান ছিল যুগান্তকারী। তিনি হিন্দু সমাজের গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর করতে আজীবন লড়াই করেন এবং তীব্র বিরোধিতার মুখে ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস করান। এছাড়া বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারীশিক্ষার প্রসারে অসংখ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তিনি এক আধুনিক ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজের ভিত গড়ে তুলেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'স্বদেশী আন্দোলন' ও 'বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন'-এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলাকে বিভক্ত করলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ স্বদেশী আন্দোলনের ডাক দেন। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দিক ছিল বিদেশি দ্রব্য বর্জন (বয়কট) এবং দেশি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং তারা ঔপনিবেশিক শাসকদের শাসনকাজে বাধা দিতে ও বিদেশি পণ্য বর্জন করতে উদ্যোগী হয়। এ দিকটি বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক সচেতনতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়, যা পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসমূহকে তীব্রতা প্রদান করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।
১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলন কেবল শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ছাত্র, যুবক, নারী এবং সাধারণ জনতা বিদেশি পণ্য বর্জন ও দেশি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে এতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। বিদেশি কাপড় পোড়ানো, বিলাতি লবণ ও চিনি বর্জন এবং দেশীয় চরকা ও বস্ত্রশিল্পের প্রসারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার পথ তৈরি হয়।
এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনসহ পরবর্তী অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। ফলে ঔপনিবেশিক বিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনা গণআন্দোলনে রূপ নিয়ে ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগে বাধ্য করার প্রক্রিয়ায় গতি এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও