ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিসংবাদিত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বা বিলোপ ও গণতন্ত্রের নবজাগরণের উদ্দেশ্যে গেটিসবার্গ নামক স্থানে এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে 'গেটিসবার্গ এড্রেস' নামে খ্যাত। তার এ ভাষণের ব্যাপ্তিকাল ছিল তিন মিনিট। ভাষণে তিনি গণতন্ত্র, শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা ব্যক্ত করেন। পৃথিবীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দাসপ্রথা বিলোপে এ ভাষণটি ছিল একটি মাইলফলক।
- ক)(1)
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদের নাম কী?
- খ)(2)
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকায়নে, ইউনেস্কোর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে মহান নেতার ভাষণের সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ভাষণটির ন্যায় বাংলার মহান নেতার ভাষণটি ছিল দিক নির্দেশমূলক ও চেতনায় উদ্দীপ্ত- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শহিদ আসাদ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকায়নে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর (UNESCO) ভূমিকা ছিল অনন্য ও প্রশংসনীয়।
কানাডাপ্রবাসী কিছু বাঙালির উদ্যোগে গঠিত 'মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড' নামের সংগঠনের প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ঐতিহাসিক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সর্বসম্মত স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ইউনেস্কোর এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলেই বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ বিশ্বদরবারে স্থায়ী স্বীকৃতি লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ এড্রেস ছিল একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী ভাষণ, যাতে গণতন্ত্র ও শোষিত মানুষের মুক্তির দিকনির্দেশনা ছিল। একইভাবে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ও কালজয়ী ভাষণ দেন।
বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বাঙালির মুক্তির সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। লিংকনের ভাষণের মতো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণও ছিল বিশ্বখ্যাত, তেজোদৃপ্ত এবং একটি জাতির রাজনৈতিক ও মুক্তির চূড়ান্ত দিকনির্দেশক। ফলে উভয় মহান নেতার ভাষণের দর্শন ও প্রভাবের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের লিংকনের ঐতিহাসিক গেটিসবার্গ ভাষণের মতোই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল অনন্য দিকনির্দেশনামূলক ও মুক্তিকামী জাতিকে চেতনায় উদ্দীপ্তকারী—মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণ যেমন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ মিটিয়ে গণতন্ত্র ও মানবতার বিজয় নিশ্চিত করেছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের মাত্র ১৮ মিনিটের ১৮ মিনিটের অনলবর্ষী ভাষণটি ছিল একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা।
বঙ্গবন্ধু তাঁর এই ভাষণে একদিকে যেমন সামরিক জান্তার ওপর চার দফা শর্তারোপ করে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত রাখেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নির্দেশ দেন—"তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।" তাঁর "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—এই অমোঘ ঘোষণা সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনতাচেতনায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। এই ভাষণের আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাঙালি জাতি আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
অতএব, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না, বরং তা ছিল একটি জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী ও মুক্তিচেতনায় উদ্দীপ্ত করার অবিস্মরণীয় দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও