‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

উৎপত্তিগত দিক থেকে জাতি ও জাতীয়তা বলতে বোঝায় 'একই বংশোদ্ভূতন জনসমষ্টি'। কিন্তু বর্তমান সময়ের লেখকগণ জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছেন। তবুও জাতি ও জাতীয়তা গঠনের উপাদান এক ও অভিন্ন। বর্তমানে জাতি ও জাতীয়তা গঠনের উপাদানগুলোর মধ্যে কোন কোন উপাদান তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

  1. ক)

    জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?

    (1)
  2. খ)

    দেশপ্রেম বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    জাতি ও জাতীয়তা গঠনের উপাদানগুলোর মধ্যে কোন পাঁচটি উপাদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করো, তা আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি-রাষ্ট্রের আধুনিক স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন ইতালীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ নিকোলো মেকিয়াভেলি (Niccolo Machiavelli)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগের মানসিকতাকে বোঝায়। দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ নাগরিক নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ধারণাগত পার্থক্য: জাতীয়তা হলো এক প্রকার মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি, যা একদল জনসমষ্টিকে অন্যদের থেকে পৃথক করে। অপরদিকে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ও স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী এমন এক জনসমষ্টি।
    ২. রাজনৈতিক সংগঠন: জাতীয়তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়; কিন্তু জাতি গঠনে রাজনৈতিক সংগঠন ও সার্বভৌমত্ব অত্যাবশ্যক।
    ৩. সম্পর্ক: জাতীয়তা হলো জাতির পূর্ববর্তী স্তর। অধ্যাপক লর্ড ব্রাইসের মতে, "জাতীয়তা যখন রাজনৈতিক দিক থেকে সংগঠিত হয়, তখন তা জাতিতে পরিণত হয়।"

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি ও জাতীয়তা গঠনে ভৌগোলিক বা বাহ্যিক উপাদানের চেয়ে মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদান বর্তমানে অধিক কার্যকর। এ প্রেক্ষাপটে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উপাদান নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. ভাবগত বা মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য: এটি জাতীয়তা গঠনের প্রধানতম উপাদান। জনসমষ্টির নিজেদের এক ও অভিন্ন ভাবার মানসিক অনুভূতিই জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।

    ২. ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক স্মৃতি: অতীত ইতিহাস, সংগ্রাম, জয়-পরাজয়ের যৌথ স্মৃতি এবং স্বাধীনতা অর্জনের যৌথ লড়াই জনগণের মধ্যে এক গভীর বন্ধন তৈরি করে।

    ৩. ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্য: একই ভাষা ও অভিন্ন সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভাব বিনিময় সহজ হয়, যা জাতীয়তাবোধকে তীব্র করে তোলে।

    ৪. অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা ও সংহতি সুদৃঢ় হয়।

    ৫. আশা-আকাঙ্ক্ষার ঐক্য: জাতির সার্বিক ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং উন্নত জীবন গড়ার যৌথ চেতনা জনগণকে একটি জাতিতে রূপান্তরের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, বংশগত বা ধর্মীয় ঐক্যের প্রাসঙ্গিকতা হ্রাস পেলেও উপরিউক্ত মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো জাতি গঠনে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন