Combined Board সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
72টি প্রশ্ন
- 51.
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক 'ক' তার অধ্যাপনা জীবনের প্রথম দিকে দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করার চিন্তা করেন। তিনি লক্ষ করলেন পুঁজির অভাবে গ্রামের মানুষ শ্রমের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছে। অধ্যাপক 'ক' একজন মহিলাকে কিছু পুঁজি দিয়ে সাহায্য করলেন। মহিলা পুঁজি কাজে লাগিয়ে পূর্বের চেয়ে বেশী আয় করতে সক্ষম হন। এভাবে অধ্যাপক 'ক' গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন মহিলা এবং পুরুষদের সংগঠিত করে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। ধীরে ধীরে অধ্যাপক 'ক' এর মডেল সারা দেশে এমনকি বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
- 52.
স্বাদশ শ্রেণির তুলির বাবা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) শহরে চাকরি করেন। সংস্থাটি জাতি-ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে শিশুদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে। তাদের পুষ্টিসাধন, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, তাদের মা'দের কল্যাণ, দুর্যোগের সময় জরুরি ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদিতে সংস্থাটির বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। তুলির বাবা গত বছর বাংলাদেশে এসে সংস্থাটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে গেছেন।
- 53.
আবদুল জব্বার তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। পরিবারের ৫ জন সদস্যের মুখে খাবার ও শরীরে পরিধেয় সামগ্রী তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে ২ জন স্কুলে যাবার উপযোগী মেয়েকে অভাবের কারণে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া স্ত্রী এক ধরনের। জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও আবদুল জব্বার ডাক্তার ও ঔষধ-পথ্যের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সেজন্য তাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
- 54.
শামীম ও শাহিদা ২০০৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হয়। তারা শহরে একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। ২ বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটি পিতামাতার যত্নে বড় হতে থাকে। ৫ বছর পর শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয়।
- 55.
সালাম সাহেব পরিবার-পরিজন নিয়ে শহরে বাস করে। তার একমাত্র কলেজপড়ুয়া ছেলে পাড়ার বন্ধুদের সাথে মিলে ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে মাঝেমধ্যে বাবার অজান্তে তার পকেট থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকে এবং দেরি করে বাড়ি ফেরে।
- 56.
নিপা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বিভিন্ন কারণে প্রায়ই সে বিষণ্ণ থাকে। স্কুলে যেতে তার ভাল লাগে না। পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে তার।
- 57.
'ক' এমন একটি গ্রামে বাস করে যার অধিকাংশ মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে। তারা মনে করে সুখ-দুঃখ, উন্নতি-অবনতি সবকিছুই কপালের লিখন
- 58.
ফরিদ মিয়ার আর্থিক অবস্থা পূর্বে ভাল ছিল না। তিনি জমি বিক্রি করে তার দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠালেন। এখন তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক। সমাজে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 59.
মমিন সাহেবের পরিবার একটি আদর্শ পরিবার। ছেলেমেয়েদেরকে তিনি নম্রতা, ভদ্রতা, আদব-কায়দা এবং নৈতিকতার জ্ঞান রপ্ত করিয়েছেন। এতে ছেলেমেয়েরা আদর্শবান হিসেবে গড়ে উঠেছে।
- 60.
মি. হাসান দীর্ঘদিন পর তার গ্রামে গিয়ে দেখলেন গ্রামের চেহারা আগের মতো নেই। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন এবং লোকজনের হাতে হাত মোবাইল যা গ্রামীণ জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।
- 61.
মাইশার মা-বাবা দুজনেই চাকরিজীবী। কাজের মেয়ের তত্ত্বাবধানে সে বড় হচ্ছে। প্রায়ই তার মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া-বিবাধ হয়। অনাদরে-অবহেলায় বড় হওয়ার কারণে সে পরিবেশের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে পারে না। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রবল।
- 62.
দিলরুবা একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত। তিনি লক্ষ করলেন কর্মস্থলে নারী ও পুরুষের কর্মপরিবেশ ভিন্ন। পারিবারিক পরিবেশেও দেখলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার ওপর বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আরোপিত হচ্ছে। কিন্তু তার ভাইদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তার চাকরি করা নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে রয়েছে প্রবল আপত্তি
- 63.
রুবেল কলেজের কিছু বন্ধু-বান্ধবের সাহচার্যে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নেশার টাকা জোগাড় করতে সে বাবা-মার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। একসময় সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়, হয়ে ওঠে পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী।
- 64.
স্লোগান-১: 'দুটি সন্তানই যথেষ্ট, একটি হলে ভালো হয়।' স্লোগান-২: 'গাছ লাগান, ধরিত্রী বাঁচান।
- 65.
জনাব নজরুল উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে একটি অধ্যায় পড়াতে গিয়ে বললেন, "আজকে আমি কতকগুলো সালের কথা বলব যার সাথে একজন নেতা ও একটি জাতির মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা জড়িয়ে আছে।" এ সময় তিনি ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ও ১৯৭১ সালের কথা বলেন এবং সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেন। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বলল, "সত্যি! উক্ত জাতির মুক্তি ও উক্ত সালগুলো পরস্পর জড়িয়ে আছে।"
- 66.

- 67.
জনাব 'খ' ১৯৫৯ সালে একটি জেলায় একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা। করেন। যার অন্যতম কাজ হলো সমাজ সম্পর্কে জরিপ করা, টার্গেট গ্রুপকে প্রশিক্ষণদান এবং পল্লি জনগণকে নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে এটির আদলে সারাদেশে বিভিন্ন সরকারিবেসরকারি পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- 68.
'রায়পুর ডিগ্রি কলেজ'-এ সম্প্রতি অনার্স, মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কলেজটিতে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সহায়ক কোর্স হিসেবে একটি বিষয় পাঠ দান করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়টি থাকলেও স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে এর অস্তিত্ব এই কলেজে নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে অনার্স পর্যায়ে আলাদা একটি বিভাগ খোলেন। সম্পূর্ণ ঘটনাটি উক্ত বিষয়ের কোর্স শিক্ষক জনাব তাওহীদুর রহমানকে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, "নিজ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এই বিষয়ের অধ্যয়ন প্রয়োজন।"
- 69.
অহন ও সিফাত দুই ভাই একাদশ শ্রেণির ছাত্র। একদিন অহন সিফাতকে বলল, "সিফাত জানিস পৃথিবীতে এক সময় এমন একটি যুগ ছিল, যে যুগে প্রত্যেকটি গ্রাম বা সংগঠন ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। অর্থাৎ জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সমস্ত খাদ্য ও উপকরণ গ্রামের মানুষজন নিজেরাই উৎপাদন করত। সে যুগের মানুষ কৃষি আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে এবং প্রকৃতিকে বশে আনতে সক্ষম হয়।”
- 70.
ডা. ফয়সাল গত বছর পাস করে নিজ থানায় মানুষের সেবাযত্নের উদ্দেশ্যে থানার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি দেখেন, এখানকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগ নির্ধারণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও তা ব্যবহারের দক্ষ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের খুব অভাব। তাছাড়া হাসপাতাল, ক্লিনিক থাকা। সত্ত্বেও এলাকাবাসীর চিন্তাধারায় এখনও তেমন পরিবর্তন আসে নাই। এখনও ঝাড়ফুঁক, ওঁঝা, কবিরাজ, তাবিজ-কবজে বিশ্বাস করে তার মাধ্যমেই আরোগ্য লাভের চেষ্টা করে। তিনি বুঝতে পারেন, কেবলমাত্র। আধুনিক সুবিধা সংবলিত স্বাস্থ্যসেবাই নয় বরং এর সফলতার জন্য প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।
- 71.

- 72.
কালুর বয়স ১৮, সখিনার বয়স ১৫, যখন ওদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তারা তিন কন্যা সন্তানের জনক ও জননী। শাশুড়ির 'নাতি চাই' এই ইচ্ছা পূরণের জন্য সখিনা আরেক কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। সংসারে সদস্য সংখ্যার সাথে তার আয় বৃদ্ধি পায়নি। বরং অভাব অনটন, ঝগড়া-ঝাটি, মারপিট লেগেই আছে।